দীপাবলি আলোর উৎসব। অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোয় ফেরার যাত্রা। পুরাণ মতে, এই তিথিতে অত্যাচারী নরাকাসুরকে বধ করেন শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী সত্যভামা। নরকাসুরের অন্ধকার থেকে জাতিকে আলোয় নিয়ে যাওয়ার উৎসব হিসেবেই এই দীপাবলি পালন। তাই আতশবাজি ও প্রদীপের আলোয় অমানিশা দুর করে আপামর ভারতবাসী। তবে এই আলোর উদযাপনে কাঁটা হয়ে থাকে আগুনের বিপদ। পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা। কীভাবে এড়াবেন বিপদ?
কোন বাজিতে বিপদ বেশি
সাধারণত যে বাজিগুলো হতে ধরে পোড়াতে হয় তাতে বিপদ বেশি। যেমন রংমশাল, ইলেকট্রিক তার, কিছু শেল। ফুলঝুরি তুলনামুলক নিরাপদ বাজি। মশলায় ভেজাল মিশলে খুব বেশি হলে ভালো জ্বলবে না। ফুলঝুরি বিস্ফোরক নয় তবে এর বিপদ ফুলকি থেকে ছিটকে আসা আগুন।
এছাড়া তুবড়ি বার্স্ট করে বা চড়কির আগুন থেকে বহুবার বহু মানুষের বিপদ হয়েছে। আবার রকেটও বেশ অপ্রত্যাশিত আচরণ করে। তাই ছাড়ার সময় সতর্ক হতে হয়। আর যে কোনও শব্দবাজি ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। বোম, কালীপটকা এসব ফাটানোর বিপদ বেশি ও নিষেধাজ্ঞা আছে।
পোড়ার ধরন
দু’ভাবে শরীর পুড়ে যায়। প্রথমত আগুনের ছিটকে আসা ফুলকি থেকে হাত পা মুখ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আগুনের শিখা বা ঝলকানি থেকে সরাসরি পুড়তে পারে। ঝলকানি থেকে হাত ও মুখ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে।
অল্প পুড়লে কী করব
ছোটখাট অংশ পুড়ে গেলে বাড়িতে শুশ্রূষা করে ভালো করা যায়। পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জল বা কলের জলের নীচে পোড়া জায়গা ধরে থাকুন বেশ কিছুক্ষণ। বরফ দেবেন না। এরপর পুড়ে যাওয়া প্রতিরোধী অয়েন্টমেন্ট দিতে পারেন। একদিন অন্তর ড্রেসিং প্রয়োজন। তবে পড়ার অংশ কম কিন্তু ক্ষত গভীর হলে অবশ্যই বাড়িতে ফার্স্ট এইড -এর পর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া বা তাঁর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বড়সড় পোড়ায় কী করণীয়
ছোটদের ক্ষেত্রে শরীরের ১০ ভাগের বেশি ও বড়দের ক্ষেত্রে শরীরের ১৫ ভাগের বেশি পুড়ে গেলেই হাসপাতালে নিতে হবে। ফেসিয়াল বার্ন বা আগুনশিখা ঝলসে মুখে লাগলে বা মুখ পুড়লে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে। মুখ পুড়ে গেলে বারুদের গ্যাস ও আগুন ধোঁয়া নাক মুখ দিয়ে ফুসফুসে যায়। তাই দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। নাক ও চোখে বারুদের কণা ঢুকে যায়। তাই বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নেওয়া আবশ্যক।



