সংবাদদাতা, বারুইপুর: শনিবার চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন। সোমবার রাতে ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান বাজি শ্রমিক রাহুল পুঁই (২৩)। তাঁর শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। তাঁর বাড়ি বারুইপুরের পিয়ালিতে। এর আগে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের নাম গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিশ্বজিৎ মণ্ডল। ওই বিস্ফোরণে মোট চারজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। চতুর্থজন বর্তমানে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ঘটনার চারদিনের মাথায় মঙ্গলবার দুপুরে হাড়ালের বিস্ফোরণস্থলে এল তিনজনের ফরেনসিক দল। তাঁরা কয়েক ঘণ্টা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বারুইপুরের এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন সহ বারুইপুর থানার পুলিশ।
ফরেনসিক দল আসার খবর পেয়ে হাড়ালের বাজি ব্যবসায়ীরা ভিড় করেন। তাঁদের অবশ্য ঘটনাস্থলের কাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ফরেনসিক দলের অনুমান, বাজি তৈরির মশলার সঙ্গে কোনো রাসায়নিক মিশ্রণের ফলেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে। তাঁদের ধারণা, বাজি কারখানায় ওইদিন দুপুরে চকোলেট বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। বিস্ফোরণস্থলের পাশেই একটি গুদামঘর রয়েছে। সেটি তালা বন্ধ অবস্থায় ছিল। পুলিশ সেই তালা ভাঙলে দেখা যায়, সেখানে অ্যালুমিনিয়ামের বাক্সে প্রচুর বারুদ মজুত করা রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে কয়েক হাজার চকোলেট বোমা। ফরেনসিক দলের এক প্রতিনিধি বলেন, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলি পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। তারপরেই বিস্ফোরণের কারণ স্পষ্ট হবে। তবে, ওই কারখানার মালিক বিধান নস্কর এবং পাশের পোল্ট্রি ফার্মের মালিক দেবাশিস মণ্ডল ও শুভাশিস মণ্ডল এখনও পলাতক। তাঁদের সন্ধানে পুলিশি তল্লাশি চলছে। এদিনও হাড়ালে দোকানপাট ছিল বন্ধ। রাস্তায় ছিল ব্যবসায়ীদের জটলা।