সংবাদদাতা, দিনহাটা: হোলির দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে তপন বর্মনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। দীর্ঘ পুলিসি জেরার পর অবশেষে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান দিয়েছে অভিযুক্ত বন্ধন দাস। পুলিস আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য বুধবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় অভিযুক্তকে।
সংবাদদাতা, দিনহাটা: হোলির দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে তপন বর্মনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। দীর্ঘ পুলিসি জেরার পর অবশেষে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান দিয়েছে অভিযুক্ত বন্ধন দাস। পুলিস আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য বুধবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় অভিযুক্তকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর প্রথমে অস্ত্র লুকানোর জন্য সিঙিমারি নদীতে ফেলে দেয় বন্ধন। কিন্তু পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে সে আবার নদীতে নেমে সেটি উদ্ধার করে। এরপর গভীর রাতে গীতালদহে নিজের বোনজামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। যদিও বোনজামাই পুরো ঘটনাটি জানত না, তবুও বন্ধন দাসকে একটি আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
পুলিসি তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ঘরের ফল্স সিলিংয়ে রঙিন লাইট লাগানো ছিল। সেই লাইট খুলে তার ভিতর আগ্নেয়াস্ত্রটি লুকিয়ে রাখে বন্ধন। জেরার মুখে সে পুলিসের কাছে এই তথ্য স্বীকার করে। তার কথা মতো পুলিস তাকে সঙ্গে নিয়ে তার বোনজামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিস। তল্লাশির পর একটি সেমি-অটোমেটিক রিভলভার, একাধিক গুলি এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, আগ্নেয়াস্ত্রটি বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং খুনের জন্যই এটি ব্যবহার করা হয়।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে ধৃতের বোনজামাইয়ের কোনও সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। তবে আপাতত তিনি নির্দোষ বলেই মনে করছে তদন্তকারী দল। দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, অভিযুক্তকে দীর্ঘ জেরা করার পর অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত চলছে, আরও তথ্য উঠে আসতে পারে। অবৈধ অস্ত্রের উৎস নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দিনহাটার জামাদারবসের পাঁচকন্যা এলাকায় হোলি খেলতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বচসায় তপন বর্মন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। কোচবিহার নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান তিনি। মদের আসরে গণ্ডগোলের জেরেই ওই গুলিকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে পুলিস জানিয়েছিল।