কাঠমাণ্ডু, ৯ সেপ্টেম্বর: সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়কে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। আচমকাই গতকাল, সোমবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় নেপালে। রাজধানী কাঠমাণ্ডু সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন যুবক-যুবতীরা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নেপাল পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অন্তত ২১ জনের। জখম ৪০০ জনেরও বেশি। গতকাল, সোমবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বানেশ্বর, সিংহ দরবার, নারায়ণহিতি এবং স্পর্শকাতর সরকারি এলাকাগুলিতে কার্ফু জারি করে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির প্রশাসন। দামাকে তাঁর বাসভবনও হামলা থেকে রেহাই পায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউ বানেশ্বর এলাকায় সেনা নামাতে হয়। কিন্তু কিছুতেই পরিস্থিতি সামলানো যায়নি। সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপের উপর ব্যানকে কেন্দ্র করে হলেও বিষয়টি দুর্নীতি, বেকারত্ব ও স্বজনপোষণের দিকে ঘুরে যায়। যার ফলে গতকাল, সোমবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার ঘোষণা করা হলেও, ওলি সরকারের উপর বিক্ষোভের ঝাঁঝ আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকে আরও বেড়েছে। নেপালের নবপ্রজন্ম চাইছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। সেই কারণেই এদিন সকাল থেকে কাঠমাণ্ডুর রাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চলছে। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর পদত্যাগ করেছেন নেপালের কৃষিমন্ত্রীও। তড়িঘড়ি এদিন সন্ধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারত সরকারও।
আজ, মঙ্গলবার নেপালে অবস্থিত ভারতীয়দের জন্য জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। তাতে বলা হয়েছে, ‘কাঠমাণ্ডু এবং নেপালের একাধিক শহরে কার্ফু জারি করা হয়েছে, সেদিকেও আমরা নজর রাখছি। নেপালে যেসমস্ত ভারতীয়রা রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। নেপালি প্রশাসনের নির্দেশ মতো চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে ভারতীয়দের।’ গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রসঙ্ঘও। এই বিষয়ে এদিন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছি। খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে নেপাল সরকার। এমনটাই আশা করি।’ সূত্রের খবর, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা করেছেন দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়ার।