নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনের তিনতলাতেই আগুন লেগেছিল। উৎসস্থল ছিল এনআইসি (ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার)-এর ঘরই। সেবার আগুন কিন্তু বড়ো আকার নেয়নি। এবারও একই স্থান থেকে আগুনের উৎপত্তি। পার্থক্য হল, এবার আগুন বিধ্বংসী চেহারা নিয়ে ছারখার করে দিয়েছে একাধিক দপ্তরের অফিস। এখানকার কর্মীদের প্রশ্ন, কেন বারবার একই জায়গা থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে? এর যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। এই সূত্রেই ছড়াচ্ছে নানা জল্পনা। স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত, এনিয়ে দিনভর কানাকানি চলেছে কর্মী-আধিকারিক থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এনআইসি ঘরের কি কোনো বিশেষ ত্রুটি আছে? নাহলে সেখানেই কেন বারবার আগুন লাগছে? উঠছে এই প্রশ্নও।
বুধবার আগুনে গুরত্বপূর্ণ কী কী সরকারি নথি পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে আগুনের তীব্রতা যতটা ছিল, তাতে বিভিন্ন অফিসে জমে থাকা ফাইল, নথিপত্রের যে কিছুই অবশিষ্ট নেই, সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। সূত্রের খবর, পেনশনের কাগজপত্র থেকে টেন্ডারের নথি, স্যালারি বিল থেকে শুরু করে বিগত সরকারের নানা কাজকর্মের প্রামাণ্য নথিপত্র, প্রকল্পের খরচের হিসাব—আগুনের গ্রাসে গিয়েছে সবকিছু। এই অবস্থায় কবে থেকে ফের কাজ শুরু করা যাবে, কীভাবে ক্ষতিপূরণ করা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে সরকারি কর্মচারী থেকে পদস্থ আধিকারিকরা।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম, অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। সেসব অভিযোগ সংক্রান্ত কাগজপত্রও এদিন পুড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখানেই অনেকের প্রশ্ন, ফেব্রুয়ারিতে আগুন লাগলেও তা এভাবে ছড়ায়নি। এদিন আগুন এত বড়ো আকার নিল কীভাবে? জেলা পরিষদের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ তথা বিজেপি নেতা অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘একই জায়গায় কীভাবে কয়েক মাসের মধ্যে দু’বার আগুন লাগে? ইচ্ছা করে কেউ আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে না তো? সিআইডিকে দিয়ে এর তদন্ত হওয়া দরকার।’
দমকলের একটি সূত্র বলছে, বিভিন্ন ঘরে কাঠের আসবাব, প্লাইউডের ফলস সিলিংসহ দাহ্য পদার্থ ঠাসা রয়েছে ছোটো ছোটো অফিসঘরগুলিতে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ ভবনে কোনো কাজ হবে না বলে ঠিক হয়েছে। কারণ, গোটা বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ নানা কাজে এই অফিসে আসেন। ফলে জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও এই আবহে বড়ো হয়ে উঠেছে। এদিকে, দিনভর হাওয়ার দাপট থাকায় আগুন নেভাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। এক জায়গায় আগুন নিভলে আরেক জায়গা দিয়ে বেরিয়ে আসছিল লেলিহান শিখা। বিকালের দিকে ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন তীব্র আকার নেয়। দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি সহ প্রশাসনিক কর্তারা। ছবি: পিটিআই