নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চলন্ত পুলকারে আচমকা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা শিলিগুড়িতে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল ১২ জন খুদে পড়ুয়া। দাউদাউ করে চোখের সামনে জ্বলতে থাকে পুলকারটি। এতে আতঙ্কিত হয়ে কাঁদতে শুরু করে পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে শিলিগুড়ির দেবীডাঙার বাবুবাসায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবুবাসার ওই স্কুলটি এদিনও নির্দিষ্ট সময়েই ছুটি হয়। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরতে ১২ জন উঠেছিল ওই পুলকারটিতে। হঠাৎই চালকের নজরে আসে গাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। তা দেখেই রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন তিনি। এরপর খুদে পড়ুয়াদের একেএকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। কিছু পরেই গোটা গাড়িটি দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। তবে দমকলপৌঁছনোর আগেই গাড়িটি পুড়ে যায়। শুধুমাত্র লোহার কাঠামোটি দাঁড়িয়ে থাকে। এদিনের ঘটনার জন্য অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গাড়িটি বহুপুরনো। অনেকবার গাড়ি বদল করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ কান দেয়নি।
এনিয়ে শহরজুড়ে শোরগোলের মধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে প্রধাননগর থানার পুলিস। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িতে আচমকা শর্ট সার্কিট হয়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি। যদিও সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছে পুলিস। এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জনক সাহা বলেন, এর আগেও এলাকার সমস্ত স্কুলকে নিয়ে বৈঠক করে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বলেছি। কোনওভাবেই পুরনো গাড়ি চালানো যাবে না বলেও সতর্কও করা হয়েছিল। বুধবার আবার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলব।
ওই বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক সুব্রত পালিত বলেন, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই দেখা হয়। একটা অঘটন ঘটে গিয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন বলেই চালকের অনুমান। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।