Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

চারমিনারের কাছে বহুতলে আগুন, মৃত ৮ শিশু সহ ১৭

রবিবার ভোররাতে হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে একটি বড় মুক্তোর দোকানে অগ্নিকাণ্ড। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ শিশু সহ ১৭ জনের।

চারমিনারের কাছে বহুতলে আগুন, মৃত ৮ শিশু সহ ১৭
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হায়দরাবাদ: রবিবার ভোররাতে হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে একটি বড় মুক্তোর দোকানে অগ্নিকাণ্ড। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ শিশু সহ ১৭ জনের। আহত আরও অনেকে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। 

Advertisement

চারমিনার এলাকার গুলজার হাউজের কাছে সারি সারি মুক্তোর দোকান। সেখানেই ছিল শ্রীকৃষ্ণ পার্ল বিল্ডিং। নীচে মুক্তোর দোকান। উপরে থাকতেন দোকানের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এদিন সকাল সওয়া ৬টা নাগাদ ওই দোকানে আগুন লাগে। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। তবে আগুনের লেলিহান শিখা ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকঘণ্টা লেগে যায়। বহুতলে আগুন দেখেই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ভোররাতে সকলেই ঘুমাচ্ছিল। তাই আগুনের বিষয়টি টের পাননি কেউই। ওই এলাকার বহু দোকানই শতাব্দী প্রাচীন। বহুতলের ঢোকার গেটও একটি। সেটিও খুব সরু। উপরে ওঠার সিঁড়ির জায়গাটিও সংকীর্ণ। এই কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়। সূত্রের খবর, ওই ঘরগুলিতে রাতে এসি চলত। সে কারণে জানালা বন্ধ ছিল। ফলে ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল ঘর। সম্ভবত এই কারণে ১৭ জনের মধ্যে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসকষ্টে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহির বলেন, ‘ধোঁয়ার কারণে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমরা কোনওমতে ১৩ জনকে বের করে আনি। তাঁরা চিকিৎসাধীন।’ 
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিটের কারণেই ওই বহুতলে আগুন লেগেছিল। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি, তেলেঙ্গানার মন্ত্রী পনম প্রভাকর, প্রাক্তন বিধায়ক মুমতাজ আহমেদ খান। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের দু’লক্ষ টাকা ও জখমদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও।  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে সহায়তার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। স্থানীয় সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ওই পরিবার এখানে ১২৫ বছর ধরে বাস করত। পরিবারের ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দু’জন মাত্র বেঁচে রয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ