রাজা ভট্টাচার্য: এখান থেকে কাছে বা দূরে, যেদিকেই চোখ মেলা যাক— দেখা যায় অনন্ত পাহাড়ের সারি। আশ্রমের নীচেই গঙ্গা। এখানে, এই হৃষীকেশে তার জলের রং ঘন সবুজ। ধর্মশালার ঠিক সামনে, ঘাটের সিঁড়িতে বসে সেদিকেই তাকিয়ে রইলেন বীণা। নভেম্বর মাস শেষ হয়ে এল। বেশ শীত পড়ে গিয়েছে।
‘ঘরে চলুন মাসিমা। সন্ধে হয়ে এল তো। হিম পড়ছে না?’
ঘাড় ঘুরিয়ে বীণা দেখার চেষ্টা করলেন, কে ডাকছে তাঁকে। বাংলা থেকে এত দূরে কেউ তাঁকে ‘মাসিমা’ বলে ডাকবেই বা কেন?
বছর পঁচিশের ছিপছিপে গড়নের মেয়েটিকে খুব চেনা চেনা লাগছে। বীণা কয়েক সেকেন্ড মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘তুমি যেন কে?’
মুহূর্তের অপ্রস্তুত ভাবটা সামলে নিয়ে মৃদু হেসে মেয়েটি বলল, ‘আমি অপর্ণা। কালকেই আলাপ হল খাওয়ার সময়— মনে নেই?’
কিছুক্ষণ শূন্য চোখে তাকিয়ে থেকে বীণা বললেন, ‘হ্যাঁ, তাই তো। কিচ্ছু মনে থাকে আজকাল। হঠাৎ মনে হল, যেন সুনীতি ডাকছে। তারপর মনে পড়ল, সে আমাকে মাসিমা বলে ডাকতে যাবে কোন দুঃখে?’ বলে খামখেয়ালি ভঙ্গিতে একটু হাসলেন বীণা।
অপর্ণা আস্তে আস্তে বসে পড়লেন ঘাটে, বীণার পাশেই। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সুনীতি কে মাসিমা?’
‘বোঝো কাণ্ড!’ চোখ বড়ো বড়ো করে বললেন বীণা, ‘তুমি সুনীতিকে চেনো না? আমাদের কুমিল্লার সুনীতি! সুনীতি আর শান্তি মিলে সেদিন কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্স সাহেবকে গুলি করে মারল— মনে নেই? দেশ জুড়ে একেবারে হুলুস্থুল পড়ে গেল!’
‘তখন আপনি কোথায় ছিলেন, মনে আছে?’
‘এই তো সেদিনের কথা। এর মধ্যেই ভুলে যাব? তখন আমি কলকাতাতেই। বেথুন কলেজে পড়ছি। ওদের— মানে সুনীতি আর শান্তির কথা শুনেই আমার মনে হল— তবে তো মেয়েরাও ঝাঁপিয়ে পড়ছে দেশের কাজে। আমিই বা তার বাইরে থাকব কেন? বিনয়-বাদল-দীনেশ যদি পারেন, ক্ষুদিরাম আর কানাইলাল যদি পারেন, আমরাই বা পিছিয়ে থাকব কেন?’
‘পরে দেখা হয়েছিল সুনীতিদের সঙ্গে?’
‘হয়েছিল বইকি! ওরা তো মেদিনীপুর জেলেও ছিল আমার সঙ্গে। সেই যে, সাতদিন ধরে অনশন করলাম আমরা! শেষে জেলার সাহেবকেই বদলি করে দিল ইংরেজ সরকার।’
একটা নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে গেল অপর্ণা।
গতকালই বাবা-মায়ের সঙ্গে ও এসে পৌঁছেছে হরিদ্বার হয়ে হৃষীকেশে। সাদামাটা শাড়ি পরে খেতে বসা এক বৃদ্ধাকে দেখে বাবা যে কেন অমন বজ্রাহত হয়ে গিয়েছিল, সেটা ও প্রথমে বুঝতেই পারেনি। বৃদ্ধার চেহারায় বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। সাধারণ বাঙালি মুখশ্রী। সাদা শাড়ি পরা, মাথায় ঘোমটা তুলে দিয়েছেন। শুধু মুখটা দেখলে বোঝা যায়, এককালে রীতিমতো সুন্দরী ছিলেন তিনি। আর সেটা শুধু দৈহিক সৌন্দর্যের ব্যাপার নয়। মুখের গড়নে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের একটা অদ্ভুত মিশেল আছে। কিন্তু তার জন্য বাবার অমন থ হয়ে তাকিয়ে থাকার, বা মুখে অসীম সম্ভ্রম ফুটে ওঠার কোনো কারণ থাকতে পারে না। বাবা যে মাকে ফিসফিস করে কিছু বলল, আর সঙ্গে সঙ্গে মা সাংঘাতিক চমকে উঠে খাওয়া থামিয়ে ঘুরে তাকাল সেই বৃদ্ধার দিকে— সেটাও ওর চোখ এড়াল না।
‘কে উনি, বাবা?’ নীচু গলায় বাবাকে জিজ্ঞেস করল অপর্ণা।
‘‘বীণা দাস। এখন বোধহয় ‘দাস ভৌমিক’ লেখেন।’’ চাপা গলায় উত্তর দিল বাবা।
‘তোমার চেনা কেউ?’
‘ততটা সৌভাগ্য নিয়ে যে আমি জন্মাইনি, মা গো!’
অপর্ণা রীতিমতো অবাক হল। ওর বাবা একজন অধ্যাপক। মা শিক্ষিকা। রীতিমতো শিক্ষিত পরিবারে ওর জন্ম। ও নিজেও সম্প্রতি দুর্দান্ত নম্বর নিয়ে এমএ শেষ করে এখন এমফিল করছে। এবার ওরা কাশী হয়ে, হরিদ্বার হয়ে হৃষীকেশে এসেছে মূলত তীর্থস্থানগুলো ঘুরে দেখতে। সর্বত্র এরকম সাদামাটা চেহারার বৃদ্ধাদের দেখতে পেয়েছে অপর্ণা। হঠাৎ এই ভদ্রমহিলাকে দেখে বাবা-মায়ের চেহারা কেন যে মুহূর্তের মধ্যে এমন বদলে গেল— সেটা ধরতে পারল না ও।
‘এরকম করে বলছ কেন? কে ইনি?’
‘ইনি এক আশ্চর্য মানুষ।’ ফিসফিস করে বলল বাবা, ‘এককালে ইনি এমন একটা কাজ করেছিলেন যে, গোটা ভারতবর্ষ কেঁপে উঠেছিল।’
মাথা নীচু করে ভাত খাচ্ছেন ভদ্রমহিলা। বাঁ-হাতে ধরে রয়েছেন মাথার আঁচলটা। ইনি একদিন ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন? কথাটা ঠিক বিশ্বাস হল না অপর্ণার। ও আবার ভুরু কুঁচকে তাকাল বাবার দিকে, ‘কী করেছিলেন উনি?’
অদ্ভুত সমীহ-ভরা চোখে ভদ্রমহিলার দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বাবা বলল, ‘উনিই গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে গুলি করেছিলেন।’
আরেকটু হলেই অপর্ণার হাত থেকে জল-ভরা গ্লাসটা পড়ে যেত। কোনোমতে সামলে দিয়ে বলল, ‘কী বললে তুমি? ইনি গুলি চালিয়েছিলেন? কী করেছিল গভর্নর?’
বাবা অধৈর্য ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, ‘আহা, পরাধীন দেশ ছিল না তখন? সেটা বোধহয়...।’
‘১৯৩২ সাল।’ পাশ থেকে বলল মা, ‘৬ ফেব্রুয়ারি। স্ট্যানলি জ্যাকসনকে সামনে দাঁড়িয়ে গুলি করেছিলেন এই বীণা দাস।’
‘১৯৩২! মানে আজ থেকে প্রায় চুয়ান্ন বছর আগের কথা! এত বয়স হয়েছে নাকি এঁর!’
মা বলল, ‘তখন তাঁর বয়স ছিল একুশ। তার মানে এখন পঁচাত্তরের আশপাশে হবে। পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন ১৯৬০। কিন্তু উনি এখানে কী করছেন?’
এমন একজন মানুষের সঙ্গে কথা না বলে দূরে বসে থাকা অপর্ণার পক্ষে সম্ভব নয়। খাওয়া শেষ করে বীণা উঠে দাঁড়াতেই ও গিয়ে তাঁকে প্রণাম করল।
বীণা কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কে মা?’
অপর্ণা জবাব দিল, ‘আপনি আমাকে চিনবেন না। সত্যি বলতে কী, আমিও আপনাকে চিনতে পারিনি। বাবা চিনিয়ে দিল, তাই ছুটে এলাম আপনাকে প্রণাম করতে।’
স্মিত হেসে বীণা বললেন, ‘কী নাম তোমার?’
‘অপর্ণা। আমরা একডালিয়ায় থাকি।’
‘আমার বাড়ির কাছেই তাহলে। সে-বাড়ি অবশ্য বিক্রি হয়ে গেছে। আচ্ছা আমি আসি। খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম না নিলে শরীর চলে না।’
সমস্ত দিন ছটফট করল অপর্ণা। একবার ঠিকঠাক কথা বলতেই হবে এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সঙ্গে। কিন্তু খুঁজে পেল না তাঁকে।
আজ আসন্ন সন্ধ্যায় বীণাকে দেখতে পেয়ে সাহস করে তাঁর পাশে এসে বসেছিল অপর্ণা। ইতিমধ্যেই বাবা আর মায়ের কাছ থেকে ও শুনেছে অনেক কথা। সম্প্রতি বীণার স্বামী বিপ্লবী যতীশ ভৌমিক প্রয়াত হয়েছেন। তারপর থেকেই নিজেকে খুব গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর স্মরণসভার দিনই নাকি কলকাতা ছেড়ে কাশী চলে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি যে হৃষীকেশে এসে রয়েছেন, সেই খবরটা বাবারও জানা ছিল না।
কথা বলতে বলতেই অপর্ণা বুঝতে পারছিল, বয়সের কারণেই হোক বা স্বামীর মৃত্যুতে পাওয়া আঘাতেই হোক, এই অগ্নিকন্যা পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় নেই।
আর এইবার আস্তে আস্তে মুখ খুললেন এই প্রবাদপ্রতিম বিপ্লবী।
‘সেদিন আমার কনভোকেশন ছিল। স্নাতক হলাম। স্বয়ং গভর্নরের হাত থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে। আগে থেকেই তৈরি হয়ে এসেছিলাম আমি। কমলাদিদির কাছে গিয়ে বলেছিলাম— এই-ই সুযোগ! ইংরেজ সরকারের পাঁজরে পাঁজরে ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার এমন সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। খোদ গভর্নরকে যদি গুলি করে মারা যায়, আতঙ্ক ছড়িয়ে যাবে একেবারে লন্ডন পর্যন্ত।’
‘আপনি তো স্টুডেন্ট ছিলেন। বন্দুক পেলেন কোথায়?’ জিজ্ঞাসা করল অপর্ণা।
‘কমলাদিদি জোগাড় করে দিলেন। সুধীর ঘোষ নামের এক বিপ্লবী দুশো আশি টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলেন একটা স্মাগল্ করা পিস্তল। কমলাদিদি শিখিয়ে দিয়েছিলেন, কেমন করে তা ব্যবহার করতে হবে। পিস্তলটা গাউনের ভেতরে লুকিয়ে আমি ঢুকে গিয়েছিলাম সেনেট হলে।’
‘কী সাংঘাতিক সাহস ছিল আপনার!’ শিউরে উঠল অপর্ণা।
বীণা যেন ডুবে গিয়েছেন স্মৃতির সমুদ্রে, ‘গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসন যখন ভাষণ দিচ্ছেন, তখনই উঠে দাঁড়িয়ে আমি গুলি চালিয়ে দিলাম তাঁকে লক্ষ্য করে। কপাল মন্দ— একেবারে কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল গুলিটা। গভর্নর তো সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়লেন। আর তাঁর পাশে বসে থাকা কর্নেল সুরাবর্দি স্টেজ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সোজা আমার উপরে। গলা টিপে ধরে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন আমায়। তার মধ্যেও আমি অবশ্য গুলি চালাচ্ছিলাম, কিন্তু একটাও লক্ষ্যভেদ করতে পারল না।’ বলে বিরস মুখে নিজের কপালে দুটো টোকা দিলেন বীণা।
‘আপনি তো ধরা পড়ে গেলেন?’
‘অবশ্যই! পালানোর চেষ্টাও করিনি অবশ্য। গভর্নরকে মেরে নিজেও মরব, এই তো ঠিক করে রেখেছিলাম আমি।’
‘তারপর? কোথা থেকে বন্দুক পেলেন, কারা আপনার সঙ্গী ছিল— এসব জানার জন্য ভয়ংকর অত্যাচার হয়েছিল নিশ্চয়ই?’
‘তা আর হবে না? আমি কিন্তু মুখ খুলিনি। একটি নামও আমার কাছ থেকে জানতে পারেনি কেউ। পরাধীন দেশের রাজবিদ্রোহী সৈনিক আমি। অত্যাচার সহ্য করতে না পারলে হবে কী করে?’
‘আর তারপর ন’বছরের জেল?’
‘হ্যাঁ। জানো, একদিনেই বিচার শেষ হয়ে গিয়েছিল।’ বলে মুখ টিপে হাসতে লাগলেন বীণা, যেন সে ভারী মজার ব্যাপার, ‘আমি তো সোজাসুজি স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম সমস্ত দোষ স্বীকার করে। খামোখা সময় নষ্ট করে কী লাভ? আর কিছু অবশ্য ফাঁস করিনি।’
কাঠ হয়ে বসে রইল অপর্ণা। স্বাধীন দেশে জন্মেছে ও। পরাধীনতার তীব্র জ্বালা, নিত্যদিনের অপমানের যন্ত্রণা এই ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের ভারতে বসে ও বুঝবে কী করে?
‘বহুকাল আগের কথা এসব, বুঝলে মা। আজ কেউ মনেও রাখেনি বোধহয়। দেশ স্বাধীন হল, দেখতে দেখতে চোখের সামনে বদলে গেল সব। শুধু তো গভর্নরকে গুলি করা নয়, জেলে থাকতে রাজবন্দিদের সম্মানের জন্য অনশন করেছি, বেরিয়ে এসে অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, ফলে আবার জেলে গিয়েছি। দাঙ্গা-দুর্গত মানুষদের জন্য কাজ করেছি। এসব কথা আজ আর কেউ জানে বলে মনে হয় না। অবশ্য না জানলেও ক্ষতি নেই কিছু।’
‘ক্ষতি নেই!’ আর্ত কণ্ঠে বলে উঠল অপর্ণা, ‘এর চেয়ে বড়ো ক্ষতি আর কী হতে পারে আমাদের! এই মরণপণ লড়াইয়ের ইতিহাস ভুলে গেলে যে আমাদের শিকড় ছিঁড়ে যাবে মাসিমা!’
‘তুমিই কী জানতে, বল?’ খুব সাদামাটা ভঙ্গিতে বললেন বীণা, যেন তাঁকে না চেনাটাই স্বাভাবিক, ‘দেশ স্বাধীন হলে যে স্বাধীনতার সৈনিকদের কাজ ফুরিয়ে যাবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! আর তখন স্বভাবতই মানুষ তাদের ভুলে যাবে।’
তীব্র লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে গেল অপর্ণার। আরও একবার স্পষ্ট করে সত্যি কথা বলেছেন ইনি। বাবা চিনিয়ে না দিলে ও বুঝতেও পারত না, এমন এক মহাবিপ্লবী ওর পাশেই বসে আছেন।
‘একদিন এভাবেই আমাদের কথা ভুলে যাবে সবাই। অবশ্য আমরা তো নেতা হওয়ার জন্য এই পথে হাঁটতে শুরু করিনি! দেশ আজ স্বাধীন, এটাই বড়ো কথা।’
আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন এক প্রবীণ রাজবিদ্রোহী। এক আশ্চর্য নারী— দেশ যাঁকে ভুলে গিয়েছে, অথচ যিনি নিজে দেশটাকে বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
‘চলুন মাসিমা। আপনাকে ঘরে দিয়ে আসি।’ তাঁর ডানহাত ধরে সিঁড়ি ভেঙে ঘাট থেকে উঠে আসতে লাগল অপর্ণা। এই হাত একদিন পিস্তল তুলে নিয়েছিল গভর্নরকে চরম শাস্তি দেওয়ার জন্য। অপর্ণার মনে হল, ওর সর্বাঙ্গ দিয়ে যেন দেশমাতৃকার আশীর্বাদের পবিত্র ধারা বয়ে গেল, যেমন করে ওদের ঠিক পিছন দিয়ে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গার ঐশ্বরিক প্রবাহ।
বয়ে যাচ্ছে বিস্মৃত অতীত থেকে আত্মবিস্মৃত ভবিষ্যতের দিকে।