Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়নি, বিভিন্ন স্কুলের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পড়ে থেকে অকেজো

দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়নি, বিভিন্ন স্কুলের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পড়ে থেকে অকেজো
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: বছর বারো আগে সরকারি নির্দেশে করিমপুর এলাকার সমস্ত স্কুলে গ্যাস ওভেনে মিড ডে মিলের রান্না চালু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্লক থেকে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার বা অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু আচমকা কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। এক অভিভাবক জীবন মণ্ডল বলেন, গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের পর স্বাভাবিক ভাবেই আগুন নিয়ে চিন্তায় থাকেন অভিভাবকরা। স্কুলেও এখন গ্যাসের ব্যবহার হয়। তাই আগুন নেভানোর সঠিক ব্যবস্থা থাকা উচিত।

Advertisement

এব্যাপারে করিমপুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, বছর ছয়েক আগে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসারের ব্যবহার আমাদের শেখানো হয়েছিল। কিন্তু এখন সেসব কারও মনে নেই। দ্বিতীয়ত ওগুলো অনেক দিন অকেজো অবস্থায় ছিল। তবে খুব সম্প্রতি সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এখন স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ মিড ডে মিল খাওয়া ছাত্রের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। যদিও প্রতিদিন সবাই আসে না। তবুও ৬০০ জনের রান্না হয়। সেখানে সত্যিই যদি আগুনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বিপদ পড়তে হতো। এখন নতুন সিলিন্ডার পাওয়ায় চিন্তা নেই। করিমপুরের স্কুল শিক্ষকদের একাংশ জানান, বেশিরভাগ স্কুলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য মিড ডে মিলের রান্না হয়। অনেক আগে কাঠের জ্বালানি দিয়ে রান্না হলেও এখন সব স্কুলেই রান্নায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। স্কুলে আচমকা আগুনের ঘটনা ঘটলে সেই আগুন নেভানোর জন্য যে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং তা ব্যবহারের অযোগ্য। ফলে স্কুলে আগুন নেভানোর জন্য আশপাশের টিউবওয়েলের জল ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকবে না। খবর দিয়ে সেখান থেকে দমকলের গাড়ি আসার আগেই সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে যেত। সবাই ওই সিলিন্ডারের ব্যবহারও জানেন না। 
করিমপুর দমকল বিভাগের এক কর্মী জানান, স্কুলে যে সব ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব নয়। তাছাড়া ওগুলোর ব্যবহার অনেকেই সঠিক জানেন না। দমকল থেকে যতবার স্কুলগুলোকে ব্যবহার পদ্ধতি শেখানোর জন্য  সময় চাওয়া হয়েছিল, ততবারই ওরা সময় দেয়নি। গত কয়েক বছরে কয়েকটি স্কুলে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। 
করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) সোমদেব মজুমদার বলেন, অন্য কোথায় কী অবস্থা জানা নেই।  তবে এই চক্রের ৮৫টি প্রাইমারি সহ মোট ১০২টি স্কুলে গ্যাস মাধ্যমে মিড ডে মিলের রান্না হয়। কিছুদিন আগে স্থানীয় ব্লক অফিস থেকে আমরা প্রত্যেক স্কুলকে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের বদলে নতুন দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ