সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা সহ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির অনেক হোটেল-লজগুলিতেই যথাযথ অগ্নিসুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার অডিট শুরু করেছে দমকল বিভাগ। কোথায় খামতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ইতিপূর্বে মন্দারমণি ও শংকরপুর পর্যটন কেন্দ্রের সব হোটেল-লজে ফায়ার অডিট শেষ করেছে রামনগর দমকল বিভাগ। তাজপুরের হোটেল-লজগুলিতে অডিট প্রায় শেষের দিকে। খুব তাড়াতাড়ি দীঘার হোটেল-লজগুলিতেও ফায়ার অডিট শুরু হবে। মাসখানেক আগে তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। দীঘা রাজ্যের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। সঙ্গে রয়েছে মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর পর্যটন কেন্দ্রও। সব পর্যটন কেন্দ্র মিলিয়ে দু’হাজারেরও বেশি হোটেল-লজ রয়েছে। প্রচুর পর্যটক বছরভর দীঘা সহ এই সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বেড়াতে যান। ইতিপূর্বে দীঘার হোটেলেও কয়েকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা না হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অডিটে গিয়ে দমকল বিভাগের আধিকারিকদের নানা খামতি চোখে পড়েছে। অনেক হোটেল-লজ রয়েছে, যেখানে ফায়ায় এক্সটিংগুইসার রয়েছে। কিন্তু বিপদের সময় কীভাবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহৃত হবে, সেই ধারণাই বেশিরভাগ হোটেল কর্মীদের নেই। আবার কোনো কোনো হোটেল-লজে এই যন্ত্রই নেই। বড়ো বড়ো হোটেল-লজ বাদে অনেক হোটেলে নেই ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। সেসব জায়গায় নেই পাম্প, জলের ছোটো ট্যাঙ্ক, স্প্রিংলার, ধোঁয়া শনাক্ত করার জন্য স্মোক ডিটেক্টরের মতো বন্দোবস্ত। হোটেলের রিসেপশন রুমের কাছে সেন্ট্রাল ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল থাকে। হোটেলে কোথাও আগুন লাগলেই সেই অ্যালার্ম বাজবে। আগুন লাগলে হোটেলকর্মীরাই যাতে হাত লাগিয়ে কিছু করতে পারেন, তার জন্যই এই সিস্টেম। কিন্তু বড়ো বড়ো বিলাসবহুল হোটেল বাদে বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব বন্দোবস্ত থাকে না। অনেক হোটেলে একটিই সিঁড়ি রয়েছে। নেই বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা। একাধিক সিঁড়ি থাকলে আগুন লাগলেই পর্যটকরা রুম থেকে দ্রুত বেরোতে পারবেন। অনেকসময় কিচেনে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে কোনোভাবে আগুন লেগে যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নিসুরক্ষার ব্যবস্থাপনা নেই। হোটেলে বিদ্যুতের যে ব্যবস্থাপনা থাকে, সেখান থেকেও শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লাগতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইলেকট্রনিক্স অডিট অর্থাৎ বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখা প্রয়োজন। এতে বিদ্যুত সংক্রান্ত কারণে আগুন লাগার ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো যায়। দমকল বিভাগের আধিকারিকদের কথায়, হোটেল চালুর আগে এফএসআর (ফায়ার সেফটি রেকমেনডেশন), এফএসসি (ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট) এবং এফএসআর (ফায়ার সেফটি লাইসেন্স)-এর জন্য আবেদন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু বড়ো হোটেলগুলি ছাড়া অনেক হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করে না।
রামনগর দমকল বিভাগের ওসি কাশীনাথ রক্ষিতের কথায়, আমরা পরিদর্শনে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণের খামতিগুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে বেশি করে সচেতন করছি। আমরা বলছি, ফায়ার এক্সটিংগুইসার, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম রাখতে হবে। বিকল্প সিঁড়ি রাখতেই হবে। আমরা হোটেলকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করছি।