Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার মঙ্গলাহাটের মডার্ন হাটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের ৮টি ইঞ্জিন

ফিরল দু’বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি। রবিবার সকালে ফের আগুন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে।

এবার মঙ্গলাহাটের মডার্ন হাটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের ৮টি ইঞ্জিন
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফিরল দু’বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি। রবিবার সকালে ফের আগুন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে। মঙ্গলাহাটের মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ের চারতলার একটি গোডাউনে আচমকা আগুন লাগে এদিন। দমকলের আটটি ইঞ্জিন প্রায় ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকলের দাবি, আগুন খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েনি বলে রক্ষা। তবে ঘিঞ্জি ওই বিল্ডিংয়ে জলের কোনও সংযোগ খুঁজে পায়নি দমকল। এমনকী, ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী দিনে বড় বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ের উপরের তলায় একটি গোডাউনে আগুন লাগে। মূলত রবিবার থেকেই শুরু হয় মঙ্গলাহাটের ব্যস্ততা। ঘটনার সময় ওই বিল্ডিংয়ে প্রায় হাজার পাঁচেক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ছিলেন। খরিদ্দারদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছিল। আচমকা বন্ধ গোডাউনের ভিতর থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখে তড়িঘড়ি বেরিয়ে আসেন সবাই। রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দমকলের চারটি ইঞ্জিন প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা হাওড়া থানার অফিসাররা তৎক্ষণাৎ চলে আসেন অকুস্থলে। আসে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। বিচ্ছিন্ন করা হয় বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় হাওড়া থানা সংলগ্ন নিত্যধন মুখার্জি রোড। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও চারটি ইঞ্জিন নিয়ে আসে দমকল। শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড বলে প্রাথমিক অনুমান। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিংয়ের ভিতরের অংশ এতটাই সঙ্কীর্ণ যে, আগুনের উৎসে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। তবে আশপাশে থাকা অন্যান্য গোডাউন বা স্টলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সবটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দমকলের দাবি, গোটা বিল্ডিংয়ে কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকী, ওই বিল্ডিংয়ে জলেরও সন্ধান মেলেনি। চারতলা বিল্ডিংয়ের  ছাদে থাকা রিজার্ভারটি রীতিমতো শুকনো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। দমকল জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। কারও গাফিলতি থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। তিনি বলেন, ‘অনেকেই নিয়ম মানতে চান না। পুলিস ও দমকল বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।’ উপস্থিত ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে আতঙ্ক। তাঁদের অনেকেই বলেন, যদি ভোররাতে আগুন লাগত, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা পেরিয়ে যেত। সোম ও মঙ্গলবার হাজার পাঁচেক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের পাশাপাশি ১৫ হাজারেরও বেশি খরিদ্দারের ভিড় হয় মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ে। বরাতজোরে প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে। হাটের কোনও বিল্ডিংয়ে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একাংশ। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, ‘মডার্ন হাট, পোড়াহাট, ফ্যান্সিহাট মিলিয়ে বস্ত্রের এই হাটে মোট ১২টি বিল্ডিং রয়েছে। প্রতিটি বিল্ডিংয়েই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নজরদারি চালাতে হবে। এভাবে একের পর এক গাফিলতি চলতে থাকলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল মঙ্গলাহাটের প্রায় তিন হাজার দোকান। পুজোর কয়েক মাস আগে মাথায় হাত পড়েছিল কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর। অগ্নিকাণ্ড এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ