নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে ফের বড় অগ্নিকাণ্ড। ডালহৌসিতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ওয়্যারহাউজে আগুন লাগে। যার জেরে প্রায় গোটা দিন ঘটনাস্থলের আশপাশে অফিসপাড়ায় দিনভর ভোগান্তি। দমকলের সাতটি ইঞ্জিন কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তবে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বিক্ষিপ্তভাবে জ্বলতে থাকা পকেট ফায়ার পুরোপুরি নেভাতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে অফিস টাইমে এই ঘটনা ঘটায় যানজট তৈরি হয় আর এন মুখার্জি রোডে। লাগাতার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট ছিল ট্রাফিক পুলিশ।
পরিবহণ ভবনের কাছে ২১ নম্বর আর এন মুখার্জি রোডে ওই ওয়্যারহাউজে সকালে আচমকা আগুন লাগে। নিমেষের মধ্যে গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। গলগল করে বের হতে থাকে আগুন। প্রথমে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আরও দু’টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে, সকাল ১১টার কিছু আগে হঠাৎ গোডাউনের পিছন দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন সামনের অংশে থাকা দোকানের কর্মীরা। তাঁরা গলি ধরে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর দেখতে পান আগুনের লেলিহান শিখা। প্রথমে আশপাশের দোকানদাররা জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। গোডাউনের ভিতরে থাকা কয়েকজনকে বাইরে বের করে আনেন। স্থানীয় দোকানদার নকুল বসাক বলেন, সামনে দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। চোখ জ্বালা করছিল ধোঁয়ার জেরে। কোনও প্রাণহানি হয়নি, সেটাই বড় কথা।
দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে চলে আসে। কিন্তু ভিতরে গ্রিজ, লুব্রিক্যান্ট অয়েল সহ নানা দাহ্য পদার্থ থাকায় দমকল কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়। আগুন কমে গেলেও ধোঁয়ার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে ভিতরে ঢুকে কাজ করেন দমকলকর্মীরা। কেমিক্যালের ঝাঁঝালো গন্ধের জেরে চোখ-মুখ জ্বলছিল বলে জানান দমকল কর্মীরা। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় ধোঁয়ার জেরে। আগুনের থেকে ধোঁয়ার তীব্রতা এত যে, সেখানে শ্বাস নেওয়াই সমস্যা হচ্ছিল। অফিস টাইমে এই ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে অনেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলের চারপাশ ব্যারিকেড দিয়ে দেয় পুলিশ। সামনের রাস্তাতেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্যস্ত রাস্তায় তৈরি হয় যানজট। পরে অবশ্য আগুন আয়ত্তে আসতেই ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।