Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দে’জ মেডিক্যালের কারখানায় আগুন, কাপড়ে নাক-মুখ ঢেকেও কাশি, ‘এমন ভয়ঙ্কর ধোঁয়া কখনও দেখিনি’

বন্ডেল গেট ব্রিজ থেকেই দেখা যাচ্ছিল, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ

দে’জ মেডিক্যালের কারখানায় আগুন, কাপড়ে নাক-মুখ ঢেকেও কাশি, ‘এমন ভয়ঙ্কর ধোঁয়া কখনও দেখিনি’
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্ডেল গেট ব্রিজ থেকেই দেখা যাচ্ছিল, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ। সেই ধোঁয়ার তীব্রতা এতটাই ছিল যে দে’জ মেডিক্যালের কারখানার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বাসিন্দারা কার্যত কাহিল হয়ে পড়লেন। দমবন্ধ হয়ে আসার মতো পরিস্থিতি হয় অনেকের। বন্ডেল রোড, বালিগঞ্জ, তপসিয়া, কসবার একাংশে পথচলতি মানুষজনও অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। নাক-মুখ ঢেকেও  কাশতে শুরু করেন অনেকে। জলে কাপড় ভিজিয়ে নাক, মুখে ঢাকা দিতে দেখা যায় কয়েকজনকে। 

Advertisement

বেলা সোয়া ৩টে নাগাদ আগুন লাগে দে’জ মেডিক্যালের কারখানায়। এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করে কৌতূহলী জনতা। স্থানীয়রাই দমকলে খবর দেন। ঘটনাস্থলের ঠিক পাশের বাড়ির বাসিন্দার অমিত যাদব। তিনি বলছিলেন, ‘কারখানায় মেরামতির কাজ চলছিল। ভিতর থেকে শ্রমিকরা আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকেন। গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ভরে যায়। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বাড়িতে বাচ্চা রয়েছে। তারা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। আগুনের তাপও আসছিল। ভয়ে রান্নাঘর থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার খুলে বের করে নিয়ে যাই।’ অমিতবাবুর স্ত্রীর কথায়, ‘জানালাটা একটুখানি খুলেছিল আমার শ্বাশুড়ি। তখনই প্রচণ্ড তাপে আর ধোঁয়ায় সংঞ্জা হারান তিনি।’ 
ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দারা সবাই নিজেদের বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ছাদে উঠে যান। তীব্র ধোঁয়ার হাত থেকে রেহাই পাননি এই চত্বরের পথচলতি মানুষজন। আফতাব আলম নামে স্থানীয় এক পথচারী বলেন, ‘অনেক আগুন লাগার ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর ধোঁয়া আগে দেখিনি। আমার তিন বছরের ছেলেটা কাশতে কাশতে বুকে হাত দিয়ে বসে পড়েছে। চোখ লাল হয়ে যায়। ওকে জল খাওয়ালাম। চোখেমুখে জল দেওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক হয় ও।’ তাঁর আশঙ্কা, ওষুধ কারখানার ভিতরে অনেক রাসায়নিক থাকে। সেগুলি পুড়ে যাওয়াতেই এই ধোঁয়ায় এত কষ্ট হয়েছে।’ পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আশপাশের বাসিন্দারা সবাই নাক-মুখে কাপড় বেঁধে নেন। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই রাত হয়ে যায়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ