মোবাইলে গোপন ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল বিজেপি নেতার নামে এফআইআর বধূর
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক:  তমলুকের এক বধূকে মহিলা মোর্চার নেত্রী বানিয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে মোবাইলে গোপন ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল! বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুর। অভিযুক্ত নেতার নাম গৌতম দাস। তাঁর বাড়ি হলদিয়া ভবানীপুর থানার অন্তর্গত গেঁওয়াডাব এলাকায়। তিনি বিজেপির হলদিয়া-৪ নম্বর মণ্ডলের এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য। টাউনশিপে দলের কার্যালয়ে সর্বক্ষণ বসে থাকেন। গত ১৫ অক্টোবর তমলুক থানার শ্রীরামপুরের ওই গৃহবধূ গৌতমের নামে সাইবার ক্রা‌ইম থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৮ ও ৭৯ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিনী ওই গৃহবধূও একজন বিজেপি কর্মী। তাঁর মহিলা মোর্চার নেত্রী হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে রয়েছে বলে  খবর। মাস কয়েক আগে ফেসবুকে হলদিয়ার বিজেপি নেতা গৌতম দাসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সেই সূত্রে বধূর ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন গৌতম। এরপর মাঝেমধ্যে অভিযুক্ত ওই বধূকে ফোন করতেন বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ওই বিজেপি নেতা শ্রীরামপুরের ওই মহিলা কর্মীকে একটি মেসেজ পাঠান। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগ্নপ্রাপ্ত মন্দিরগুলিকে নিয়ে একটি কমিটি গড়া হবে এবং ওই মহিলাকে সেই কমিটির সদস্যা করা হবে বলে টোপ দেন। সেইসঙ্গে তাঁকে মহিলা মোর্চার নেত্রী করার প্রতিশ্রুতিও দেন। 
জানা গিয়েছে, মন্দির কমিটির সদস্যা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করানোর নামে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা ওই মহিলার মোবাইলে ওটিপি পাঠান। সেটি শেয়ার করার পর ওই মহিলা দ্রুত নিজের ভুল বুঝতে পারেন। ওটিপি শেয়ার করার মধ্য দিয়ে তাঁর মোবাইলের অ্যাকসেস ওই বিজেপি নেতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেন। তারপর মহিলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট তাঁর মোবাইলে পাঠাতে শুরু করেন ওই বিজেপি নেতা। শুরুতে ওই মহিলা কিছু বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু, রাতের পর রাত তাঁর মোবাইলের তথ্য ওই বিজেপি নেতা তাঁকে শেয়ার করে ব্ল্যাকমেল করার পর মহিলা কর্মীর ভুল ভাঙে। তিনি বুঝতে পারেন, ওটিপি শেয়ার করে তাঁর মোবাইলের অ্যাকসেস ওই বিজেপি নেতা কুক্ষিগত করে নিয়েছেন। আর সময় নষ্ট না করেই তিনি তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেন। সেখানে হলদিয়ার মণ্ডল-৪ কমিটির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। এনিয়ে হলদিয়া-৪ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি কেশব দাস বলেন, ‘গৌতম দাসের ইমেজ খারাপ। আমরা তাঁকে মণ্ডল কমিটির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’ 
এনিয়ে গৌতমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর সম্পর্কে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার বিষয়টি শোনার পরই ফোন কেটে দেন ওই বিজেপি নেতা। শ্রীরামপুরের অভিযোগকারী ওই মহিলা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি তাঁর ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেল করার প্রমাণও পুলিশকে দিয়েছেন। অবিলম্বে নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহৃত বিজেপি নেতার মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।