নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সরকারি চাকরি পাকা। তাও আবার প্রাইমারি স্কুলে। ৮ লক্ষ টাকা দিলেই হাতে হাতে নিয়োগপত্র। এই টোপ দিয়েই ভাইপোকে প্রতারণার ফাঁদে ফেললেন কাকা। তিনি আবার উর্দিধারী। কলকাতা পুলিসের সিঁথি থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। ইতিমধ্যেই কনস্টেবল কাকার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছেন ভাইপো। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার পুলিস।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১-২২ সালে। প্রতারিত যুবকের অভিযোগ, প্রথমে টাকা দিতে রাজি হননি তিনি। এরপরে নানা অছিলায়, নিশ্চিত চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণার জাল বোনে অভিযুক্ত কনস্টেবল। কিন্তু, টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইলেও, তা দিচ্ছেন না কাকা। শুধু তিনি একা নন, অভিযুক্ত পুলিসকর্মী ও তাঁর স্ত্রী বহু যুবক-যুবতীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন যুবক।
প্রতারিত যুবক বলেন, অভিযুক্ত কনস্টেবলের বাড়ি বিষ্ণুপুর শহরে। কিন্তু, তিনি সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে থাকেন। ২০২১ সালে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১২ লক্ষ টাকার দাবি করেছিলেন। প্রথমে এক লক্ষ টাকা দেন অভিযোগকারী। তারপর ভুয়ো ওয়েবসাইটে প্যানেলে নাম দেখিয়ে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা নেন। পরে আরও দু’লক্ষ টাকা নেন। সিংহভাগ টাকা অভিযুক্তের স্ত্রী এবং অন্য একজনের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ডিএলএড ট্রেনিং নিয়েছেন প্রতারিত যুবক। তাঁর দাবি, ‘সরকারি চাকরির আশায় ঋণ নিয়ে বিপুল টাকা সরল বিশ্বাসে দিয়েছিলাম কাকাকে। টাকা ফেরত চেয়ে কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি’।
প্রতারিত যুবক আরও বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারি ওয়েবসাইটে প্যানেলে আমার নাম দেখানো হয়। তাতে চাকরির ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। তারপরেই দু’দফায় শেষের সাত লক্ষ টাকা দিই। কলকাতায় নিয়ে গিয়ে আমার কাগজপত্র ভেরিফিকেশন করানো হয়। তাতে আরও বিশ্বাস জন্মায়। কিন্তু, সবটাই যে ভুয়ো, তা বুঝতে পারিনি। ভেরিফিকেশনের দিন আমার মতো অনেকেই গিয়েছিল। তারাও ওই চক্রের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে।’
পুলিস সূত্রের খবর, প্রাইমারি স্কুল ছাড়াও প্রতারিতদের মধ্যে কাউকে কাউকে সেচদপ্তরে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কনস্টেবল প্রভাব খাটিয়ে বড়সড় প্রতারণা চক্র ফেঁদেছিল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই চক্রে ওই পুলিস কর্মী ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। সবকটি ব্যাঙ্ক লেনদেন এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। এপ্রসঙ্গে, কলকাতা পুলিসের এক পদস্থ কর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাঁকুড়া পুলিসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই প্রতারণার মামলা নিয়ে সরকারিভাবে আমাদের কিছু পাঠানো হয়নি এখনও।’