নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্রাম সাজানো এবং গ্রামের বিভিন্ন অংশকে দিকচিহ্ন দিয়ে চেনাতে উদ্যোগ নিয়েছে হুগলির মগরা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চারটি সংসদকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকবে ‘ফিঙ্গার পোস্ট’ বা আঙুল সংকেত এবং এলাকার মানচিত্র। এই অভিনব পরিকল্পনাকে ঘিরে মগরার জয়পুর গ্রামে ইতিমধ্যেই সাড়া পড়েছে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন বাঁকের মুখে ওই মানচিত্র দেখে গ্রামের মানুষ তো বটেই, বাইরে আসা লোকজন সহজেই এলাকা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন। গ্রামের বিভিন্ন পুকুরকে গাছ-গাছালি দিয়ে ঘিরে দেওয়ার পরিকল্পনাও বছরের শেষপর্বে এসে কার্যকর করতে শুরু করেছে পঞ্চায়েত। কর্তাদের দাবি, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পুকুরের ধারে গার্ডওয়াল তৈরির জন্য এই কাজ করা হচ্ছে।
হুগলির মগরা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, বাইরে থেকে আসা মানুষজন গ্রামের কোথায় কী আছে, তা জানতে পারেন না। ফলে সমস্যায় পড়েন তাঁরা। আবার এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামে গিয়ে ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। সেসব মেটাতেই জয়পুর গ্রামে এই নতুন পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ম্যাপ সিম্বল, ট্রাফিক সাইন, ফিঙ্গার পোস্ট— এসব দিয়েই গ্রাম সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পুকুরের ধারে আমরা গার্ডওয়াল তৈরি করে থাকি। ওই ব্যবস্থাকেই আমরা একটু অন্যভাবে করতে চাইছি। তাই পুকুরকে ঘিরে গাছ লাগানোর কাজ করা হচ্ছে। তাতে প্রাকৃতিক গার্ডওয়াল যেমন তৈরি হবে, তেমনই বাড়বে সবুজ। এর ফলে সৌন্দর্যায়নের কাজও হয়ে যাবে। নিজস্ব চিত্র
মগরা-১ নম্বর পঞ্চায়েতের কর্তাদের দু’টি পরিকল্পনারই প্রশংসা করেছেন আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার প্রবীণ শ্যামল সিংহ। তিনি বলেন, সমস্ত আধুনিক শহরে এই রকম ফিঙ্গার পোস্ট থাকে। রাজ্যের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায় এই পোস্টগুলি নিজস্ব সৌন্দর্য্য তৈরি করে। ওই পঞ্চায়েত গ্রামীণ জনপদের মানুষকে তেমনভাবেই এলাকা চেনানো ও সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থা করছে শুনে ভালো লাগছে।



