নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে একদিনে জরিমানা আদায় হয়েছে ৬ লক্ষ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। হুগলি জেলার গ্রামীণ পুলিশ শনিবার অভিযান চালিয়ে এই পরিমাণ জরিমানা আদায় করেছে। পুলিশের হিসাবে, একদিনে ট্রাফিক আইন ভেঙেছেন ৬৪৫ জন। প্রায় বেনজির ওই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ওই ঘটনায় ট্রাফিক আইন নিয়ে নাগরিকদের উদাসীনতা যেমন সামনে এসেছে, তেমনই পুলিশের বিশেষ সক্রিয়তাও নজর কেড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের বিষয়ে পদক্ষেপ করতে শুরু করেছিল। সেক্ষেত্রেও বিরাট অঙ্কের জরিমানা আদায় হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জানিয়েছে, ওই খাতে ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার জরিমানা আদায় হয়েছে।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের কর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাফিক আইন ভাঙলে অভিযুক্তকে রেয়াত করা হবে না। ধারাবাহিক অভিযান চলবে। হেলমেটহীন যাত্রার ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নাগরিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই পুলিশ বিভাগ কঠোরতম পদক্ষেপ করবে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ অফিসার বলেন, পথ সুরক্ষা নিয়ে পুলিশের তরফে ধারাবাহিক কর্মসূচি আগেও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে যতটা জোর দেওয়া হয়েছিল, ততটা আইন প্রয়োগ করা হয়নি। বর্তমান সময়ে আইন প্রয়োগের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ জরিমানার ভয়ে যদি ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হয় আম জনতা। নাগরিকদের একাংশ অবশ্য পুলিশের ওই ‘ভয়-ভক্তি’ নীতির প্রশংসাই করছে। শ্রীরামপুরের সমাজকর্মী সমীর সাহা বলেন, পথ নিরাপত্তা খুবই জরুরি। সোজা পথে যদি মানুষের বোধোদয় না হয়, তাহলে কঠোর পন্থা নেওয়া ভালো। পাশাপাশি, গ্রামীণ পুলিশের কাছে অনুরোধ, জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া মিলেছে সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষের কাছ থেকে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, সর্বত্র আইনের শাসন। পুলিশ বাহিনী সর্বত্র সেই কাজে মনোযোগ দিয়েছে, এটা খুবই ভালো কথা। এর আগে নানা সপ্তাহ পালন হয়েছে, রঙিন কর্মসূচি হয়েছে। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা বা জনসচেতনতা তৈরি হয়নি। এবার জরিমানার ভয়ে যদি লোকে ট্রাফিক আইন মানে। পথেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
একটি পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ-সাত বছরে হুগলি জেলায় ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য জরিমানা আদায়ের হার খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়। সেখানে একদিনের অভিযানেই গ্রামীণ পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এখন দেখার, নাগরিকদের অভ্যাসে বদল আসে কি না।