নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ কয়েকবছর পর জলপাইগুড়ি পুরসভায় অর্থ সাব কমিটির মিটিং হল। অথচ বুধবার সেই মিটিংয়ে হাজির থাকলেন না চেয়ারপার্সন এবং ভাইস চেয়ারম্যান দু’জনের কেউই। জলপাইগুড়ি পুরসভার কোষাগারের হাল খারাপ। কর্মীদের বেতন, পেনশন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ অবস্থায় কীভাবে পুরসভার নিজস্ব আয় বাড়ানো যায়, তারই পথ খুঁজতে এদিন বৈঠকে বসে ফিনান্স অ্যান্ড রিসোর্স মবিলাইজেশন স্ট্যান্ডিং কমিটি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল এবং ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। চেয়ারপার্সনের দাবি, সাব কমিটির মিটিংয়ে যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাই এদিন মিটিং করেছেন। আমি অফিসে ছিলাম। কিন্তু অন্য কাজ থাকায় ওই মিটিংয়ে যাইনি।
কমিটির চেয়ারম্যান তথা জলপাইগুড়ি পুরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুব্রত পাল বলেন, দীর্ঘদিন পর এই কমিটির বৈঠক ছিল। কীভাবে পুরসভার আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব, সেটাই খতিয়ে দেখা হয়েছে বৈঠকে। চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারম্যানের পূর্ব নির্ধারিত কিছু কর্মসূচি থাকায় তাঁরা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে পুর আধিকারিকরা ছিলেন। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল ছিলেন। এই কমিটির সদস্য কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সিও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থেকে সদর্থক ভূমিকা পালন করেছেন।সুব্রতবাবুর দাবি, ফ্ল্যাট হওয়ায় এখন হোল্ডিং অনেক বেড়েছে। সেগুলি ঠিকমতো সার্ভে করা। বাণিজ্যিকভবনগুলি ভালোভাবে চিহ্নিত করে সেইমতো সম্পত্তিকর ধার্য করা। দীর্ঘদিন ট্যাক্স বাড়েনি। অন্তত, ১০ শতাংশ ট্যাক্স বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। মিউটেশন ফি আদায়ে জোর। পুরসভার অনেক নন ফাংশনাল সম্পত্তি পড়ে রয়েছে। সেগুলিকে ভাড়া কিংবা লিজ দিয়ে পুরসভার আয় অনেকটাই বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এসব নিয়েই এদিন আলোচনা হয়েছে।কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি বলেন, পুরসভার কোষাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। এভাবে চললে অচিরেই পুর কর্মীদের মাইনে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। পুরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে আগে যেটা দরকার, তা হল পুরসভা এলাকায় কত হোল্ডিং রয়েছে, তার ঠিকমতো সার্ভে করা। পুরসভার কাছে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্যই নেই।পুরসভা সূত্রে খবর, গত কয়েকমাস ধরে অস্থায়ী চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। তারমধ্যে চাপে পড়ে সাফাইকর্মী, জল বিভাগের কর্মীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন। গত তিন মাসে মিউটেশন ফি বাবদ প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে পুরসভার। এরইসঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলি থেকে বকেয়া সম্পত্তিকর আদায়েও জোর দেওয়া হয়েছে। এসব থেকে যতটা যা আদায় হচ্ছে, পুরসভা চালাতে গিয়ে তার সিংহভাগ খরচ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পুরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া আর যে কোনও পথ নেই তা স্বীকার করে নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।