Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবশেষে আশ্রমে আশ্রয় জঙ্গলে বসবাস করা বধূ ও তাঁর মেয়ের

অবশেষে আশ্রমে আশ্রয় জঙ্গলে বসবাস করা বধূ ও তাঁর মেয়ের
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অবশেষে পুলিসের উদ্যোগে আশ্রয় খুঁজে পেলেন জঙ্গলে বসবাস করা গৃহবধূ ও তাঁর মেয়ে। মঙ্গলবার রাতে তাঁদের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ওই মহিলা ও তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে উনি আগে যে আশ্রমে ছিলেন, সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপ পুরসভার ২১নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শীলা সাহা বলেন, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি, পুলিস ওই মা-মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা তাঁর হাওড়ার বাসিন্দা স্বামীর ঘর থেকে চলে এসেছিলেন। নবদ্বীপকে নিরাপদ ভেবে মেয়েকে নিয়ে ঘন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত ১৫দিন ধরে নবদ্বীপ পুরসভার ২১নম্বর ওয়ার্ডের প্রাচীন মায়াপুরে ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে বাস করছিলেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই নবদ্বীপ থানার পুলিস নড়েচড়ে বসে। প্রশাসন মঙ্গলবার রাতে তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। নবদ্বীপ জন্মস্থানঘাট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা পরেশ ঘোষ বলেন, যেভাবে ওঁরা ভাগীরথীর ধারের ঘন জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছিলেন, তা সত্যিই ভয়ের বিষয়। ওই জঙ্গলে বিষধর সাপ সহ অন্যান্য বিষাক্ত পোকামাকড় রয়েছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সাইকেল নিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে কেক, বিস্কুট সাপ্লাই করেন শ্যামল সাহা। তিনি বলেন, সত্যি বলতে কি, এই ঘটনা দেখার পর থেকে আমি সাংবাদিক বন্ধুদেরই খুঁজে বেড়াচ্ছি। ওই জঙ্গলে কীভাবে বাচ্চাটিকে নিয়ে ওর মা শুয়ে থাকতেন, তা ভাবলেই শিউরে উঠতাম। ওঁরা কোনওরকমে একটি মাদুর, দু’টি ছেঁড়া বালিশ আর নোংরা কম্বল নিয়ে থাকতেন। দেখে খুবই কষ্ট লাগত। স্থানীয় এক গৃহবধূ জানালেন, মেয়েটির আচরণ ভালো ছিল। সবার সঙ্গে কথা বলতো। তবে আমরা খুবই ভয় পেতাম। কেননা এখানে রাতের বেলায় কিছু অপরিচিত লোক আসা-যাওয়া করত। পাশেই নিদয়া যাওয়ার ফেরিঘাট।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ