নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তিন বছর পর অবশেষে যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া মহাবিদ্যালয়ে নতুন গভর্নিং বডি তৈরি হল। বুধবার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন পটাশপুরের বিধায়ক তথা সভাধিপতি উত্তম বারিক। এছাড়া সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেলেন জেলা পরিষদ সদস্য পটল আদক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দেবব্রত পণ্ডা। বিশ্ববিদ্যালয় মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে এদিন উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জয়ন্ত কুণ্ডু। এছাডাও শিক্ষক ও অশিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আরও চারজন গভর্নিং বডির সদস্য হয়েছেন। কলেজের প্রিন্সিপাল প্রদীপ্তকুমার মিশ্র ছাড়াও এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি, পটাশপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নমিতা বেরা ও সহ সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা প্রমুখ নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে কলেজে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর ২০২২ সালে ১৬ মার্চ যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া কলেজে গভর্নিং বডি তৈরি নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। যদিও সেসময় নতুন গভর্নিং বডি গঠন করা হয়নি। বরং পুরনো কমিটিকে প্রতি ছ’মাস অন্তর রিনিউ করে সরকারি নির্দেশিকাকে ঠাণ্ডাঘরে পাঠানো হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আন্দোলনে নামে। ওইদিন কলেজে পুরনো গভর্নিং বডির সভা ছিল। ছাত্র আন্দোলনের জেরে সেই সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়। হেনস্তার শিকার হন পুরনো কমিটির সম্পাদক। তারপর লাগাতার আন্দোলনে কলেজের স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছিল।
এরপর ছাত্র প্রতিনিধিরা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন। উপাচার্য সরকারি নির্দেশ মেনে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রিন্সিপালকে নির্দেশ দেন। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরও একই নির্দেশ দেয়। যেকারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন গভর্নিং বডি গঠন করতে একপ্রকার বাধ্য হয়। আগেভাগে কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮মে কলেজে নতুন গভর্নিং বডি তৈরি হয়। এদিন কলেজ গেটে ছাত্রছাত্রীরা দাঁড়িয়ে গভর্নিং বডির নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানান। কলেজের সেমিনার হলে নতুন কমিটির সভাপতি সমেত সকল সদস্যকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ছাত্র ইউনিটের পক্ষ থেকে সুমন দাস, শেখ রাকিবুল, কৌশিক বেরা, রামকৃষ্ণ মহাপাত্র সহ আরও অনেকে ছিলেন।
এদিন উত্তমবাবু বলেন, কলেজের উন্নয়নের স্বার্থে আমি সবসময় পাশে থাকব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্চশিক্ষার জন্য নানারকম স্কলারশিপ সহ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন। এই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যাতে তার সুবিধা পায় সেটা নিশ্চিত করা হবে। কলেজের প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকে পঠনপাঠন, খেলাধূলা সহ সব ক্ষেত্রে যাতে উন্নতি হয় সেদিকে নজর দেব। সেইসঙ্গে আগামী দিনে এই কলেজ যাতে ন্যাকের বিচারে ‘এ’ গ্রেড পায় সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। সকলকে একসুরে বেঁধে আমরা কলেজকে এগিয়ে নিয়ে চলার জন্য লড়াই করব।