নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডাকাতির উদ্দেশ্যে হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় হানা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি ডাকাত দলের। বুধবার রাতে একটি লরি নিয়ে ডাকাত দলটি হাওড়া শহরে ঢুকতেই রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় পিছু ধাওয়া করে দুই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করেছেন হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা। আটক করা হয়েছে লরিটিকে। ধৃতদের নাম আসাদুল গায়েন ও ছোটু সিং। দু’জনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিসের তাড়া খেয়ে গ্যাংয়ের বাকি দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার কোনও এক গ্রামীণ এলাকায় গভীর রাতে ডাকাতির ছক কষেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই ডাকাত দলটি। সেইমতো একটি লরি নিয়ে ছ’-সাতজন দুষ্কৃতী রওনা হয় হাওড়ার দিকে। রাত দশটার পর যে কোনও সময় ডাকাত দলটি বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা পার করতে পারে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল হাওড়া সিটি পুলিস। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত লরির নম্বরও ছিল পুলিসের কাছে। সেই মতো টোল প্লাজার কাছেই জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন গোয়েন্দারা। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি লরি দ্রুতগতিতে টোল প্লাজা পার করতেই সন্দেহ হয় পুলিসের। পুলিসি তৎপরতা টের পেয়েই তটস্থ হয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। লরিটি আচমকা গতি বাড়িয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বেপরোয়া গতিতে ছুটতে শুরু করে। বেলেপোল পেরিয়ে বাকসাড়া জানা গেটের কাছে ট্রাফিক সিগন্যালের যানজটে আটকে পড়ে লরিটি। পুলিসের হাত থেকে বাঁচতে লরিটি ডানদিকে ঘুরিয়ে রামরাজাতলা স্টেশনগামী রাস্তা ধরে দুষ্কৃতীরা। রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় পিছু নেয় পুলিস। জানা গিয়েছে, সেই সময় রামরাজাতলা স্টেশন রোডে ভিড় ছিল অনেকটাই। বেপরোয়া লরির ধাক্কায় সামান্য আহত হন এক মহিলা পথচারী। পুলিস কাছাকাছি চলে এসেছে টের পেয়েই চলন্ত লরি থেকে লাফ মেরে দৌড়তে শুরু করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। স্টেশন রোড সংলগ্ন একটি নয়ানজুলিতে ঝাঁপ দেয় তারা। শেষমেশ কিছুদূর এগিয়ে লরিটিকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিস। গাড়িতে থাকা দু’জন অবশ্য পালাতে পারেনি।
ঘটনাস্থল থেকেই দুই দুষ্কৃতী আসাদুল ও ছোটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। গভীর রাত পর্যন্ত আশপাশের এলাকায় পলাতক দুষ্কৃতীদের খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কারও খোঁজ মেলেনি। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘দুই দুষ্কৃতীকে এদিন হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। তাদের হেফাজতে নিয়ে গ্যাংয়ের বাকিদের খোঁজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোপন সূত্রে আগে থেকে খবর মেলায় দুষ্কৃতী দলটির ডাকাতির পরিকল্পনা ভেস্তে ফেলা সম্ভব হয়েছে।’ পুলিস আরও জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় ডাকাতির পর লুট করা সরঞ্জাম লরিতে চাপিয়ে চম্পট দেওয়াই ছিল দলটির পরিকল্পনা। এই ধরনের কাজ এর আগেও তারা করেছে। এই ঘটনায় রামরাজাতলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিজস্ব চিত্র