Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

শুরু হল উৎসবের মরশুম, জিএসটি হ্রাসের প্রাক্কালেই আদায় প্রায় ২ লক্ষ কোটি, এক মাসে ২০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি বাংলায়

জিএসটির হার কমানো হয়েছে দিন দশেক আগেই। কিন্তু তার প্রাক্কালে, উৎসবের মরশুমের শুরুতেই প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করে ফেলল জিএসটি আদায়।

শুরু হল উৎসবের মরশুম, জিএসটি হ্রাসের প্রাক্কালেই আদায় প্রায় ২ লক্ষ কোটি, এক মাসে ২০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি বাংলায়
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিএসটির হার কমানো হয়েছে দিন দশেক আগেই। কিন্তু তার প্রাক্কালে, উৎসবের মরশুমের শুরুতেই প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করে ফেলল জিএসটি আদায়। সেপ্টেম্বর মাসে পণ্য পরিষেবা কর বাবদ সরকারি কোষাগারে এসেছে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে জিএসটির নয়া হার। অর্থাৎ এই রেকর্ড অঙ্কের আদায়ের মধ্যে সিংহভাগই পুরনো করকাঠামো অনুযায়ী পণ্য ক্রয়ের হিসেব। 

Advertisement

আর এই পরিসংখ্যানে বাংলার অর্থনীতির জন্য রয়েছে বিশেষ সুসংসাদ। আগস্ট মাসের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে পণ্য বিক্রয় বাবদ জিএসটি আদায়ের পরিমাণ এক মাসেই এক ধাক্কায় ২০০ কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিগত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় আয়ের অঙ্ক বেড়েছে ৫০০ কোটি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলায় ৫ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা জিএসটি আদায় হয়েছিল। আর গত মাসে অর্থাৎ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বৃদ্ধিহার ১০ শতাংশ। জিএসটি আদায়ের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের স্থান বৃহৎ ও পূর্ণ রাজ্যগুলির মধ্যে সপ্তম, যা এক বছর আগেও ছিল অষ্টম। আবার বৃদ্ধিহারের ক্ষেত্রে গুজরাত কিংবা মহারাষ্ট্রের থেকে এগিয়ে বাংলা। বরং রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশের সমগোত্রীয়। সেই তুলনায় বহু পিছিয়ে বিহার। নীতীশ কুমারের রাজ্যের জিএসটি আদায়ের অঙ্ক মাত্র ১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
উৎসবের মরশুমের ক্রয়বিক্রয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় সাধারণত তিন মাসকে—সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর। অন্য বছরের তুলনায় এবার অক্টোবর মাস বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে চলেছে জিএসটি আদায়ের ক্ষেত্রে। কারণ, ২০১৭ সালে চালু হওয়া পণ্য পরিষেবা কর এই প্রথম বড়সড় সংস্কারের পথে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে জিএসটির ধাপ। বর্তমানে ৫ এবং ১৮ শতাংশ, এই দুই ধাপ রয়েছে। ২৮ শতাংশ ও ১২ শতাংশ জিএসটি বাতিল হওয়ায় বহু নিত্যপণ্য ভোগ্যপণ্যের দাম কমে যাচ্ছে। 
এর প্রভাব সবথেকে বেশি টের পাওয়া যাবে অক্টোবর মাসে। সাধারণত অক্টোবর মাসের জিএসটি আদায় অনেক বেশি হয়। এবার তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখতে উদগ্রীব মোদি সরকার। সরকারের আশা, যেহেতু বহু পণ্যের জিএসটি কমেছে, ফলে ক্রয়বিক্রয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আর তারই জেরে জিএসটি আদায়ের লোকসান ঠেকানো সম্ভব হবে। সেটা আদৌ হবে কি?
ইতিমধ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট কমায়নি। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্ক বাবদ বাণিজ্যের যে ক্ষতি হবে, সেই ক্ষতিপূরণ জিএসটি কমিয়েও হবে না বলেই মনে করছে আরবিআইয়ের নীতি নির্ধারণ কমিটি। অতএব দীপাবলি, কালীপুজো, ভাইফোঁটা, ছট পুজোর দিকে তাকিয়ে রয়েছে সরকার। আশা করা হচ্ছে, অক্টোবর মাস ২ লক্ষ কোটি টাকার অনেক বেশি জিএসটি উপহার দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ