Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরের গোলাড় সুশীলা বিদ্যাপীঠের হীরকজয়ন্তী ঘিরে উৎসবের আমেজ

কেশপুরের গোলাড় সুশীলা বিদ্যাপীঠের হীরকজয়ন্তী ঘিরে উৎসবের আমেজ
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কেশপুরের গোলাড় সুশীলা বিদ্যাপীঠের হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপন ঘিরে পড়ুয়াদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৭মার্চ থেকে পাঁচদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি প্রাক্তনীরা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠানের শেষদিনে ছাত্রছাত্রীদের ঢল নামবে বলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা আশাবাদী।

Advertisement

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের পাশে সবসময় থাকবে। সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় মাপের অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হতো না।
হীরকজয়ন্তীর নানা অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী শিউলি সাহা, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্তকুমার চক্রবর্তী, শ঩হিদ ক্ষুদিরাম বসুর বড়দি অপরূপা বসু রায়ের নাতি সুব্রত রায় সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ রক্তদান শিবির আয়োজন করেছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাদার টেরেসা, ডঃ আম্বেদকর, রাজা রামমোহন রায় ও মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। স্কুল প্রাঙ্গণে ১০০ ফুট উঁচু জাতীয় পতাকা লাগানো হয়েছে। জাতীয় পতাকাটি লম্বায় ২৪ ফিট, প্রস্থে ১৬ ফিট। সাড়ে ৯ কেজি ওজনের জাতীয় পতাকা তৈরি করতে প্রায় ২২হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্কুলপ্রাঙ্গণে সৌমিত্র কুলধ্যায়, জয়ন্ত পণ্ডিতের পরিচালিত নাটক ব্যাপক সাড়া ফেলে।
৬০বছর আগে কেশপুর ব্লকের গোলাড়ে এই বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। স্থানীয় বিভূতিভূষণ সরকার, পঞ্চানন কারক, রামরেণু মান্না সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪সালে পঞ্চম ও ১৯৬৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণি চালু হয়। ১৯৬৭সালে দ্বিতীয় বিভাগের জুনিয়র হাইস্কুলের অনুমোদন মেলে। সেসময় তিনটি পাকা ও তিনটি মাটির ক্লাসরুম ছিল। ২০০৫সালে মাধ্যমিকস্তরে উন্নীত হওয়ার সময় স্কুলে আটটি শ্রেণিকক্ষ ছিল। ধীরে ধীরে স্কুলে বিদ্যুৎ-সংযোগ, জলের পাইপলাইন বসতে শুরু করে। ২০১০সালে ভোকেশনাল বিভাগ চালু হয়। পরে পড়ুয়াদের জন্য হস্টেলের অনুমোদন মেলে। ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক শুরু হয়। সেসময় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বেড়ে ২২টি হয়। স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ চালুর পাশাপাশি অডিটোরিয়াম তৈরি শুরু হয়। ২০১৫সাল নাগাদ স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান ঘিরেও ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। সেসময় বিভূতিভূষণ সরকার সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও বিদ্যালয়ের তোরণ নির্মিত হয়।
২০১৭সাল থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে রক্তদান শিবির আয়োজিত হচ্ছে। গতবছর ১৩৬জন রক্ত দিয়েছিলেন। শুক্রবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। মরণোত্তর দেহদান কর্মসূচিতেও স্কুলের শিক্ষকরা এগিয়ে এসেছেন। প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুলের অনেক প্রাক্তনী এখন দেশবিদেশে প্রতিষ্ঠিত।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ