Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তার হতেই উৎসবের আবহ ফলতায়, চলল মিষ্টি বিলি

জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারিতে ফলতায় শুরু হয়েছে আনন্দের উৎসব। স্থানীয়রা মিষ্টি বিলি করে উল্লাস প্রকাশ করছে। বিস্তারিত পড়ুন।

‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তার হতেই উৎসবের আবহ ফলতায়, চলল মিষ্টি বিলি
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: জাহাঙ্গির গ্রেপ্তার! সোমবার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফলতার ঘরে ঘরে, রাস্তায়, বাজারে, অফিস-কাছারিতে কার্যত উচ্ছ্বাসের ঝড় বয়ে যায়। হাসিমনগর, ফতেপুর, দিঘিরপাড়, জগন্নাথপুর, নৈনান, সরারহাট থেকে ফলতা কেল্লাসহ সংলগ্ন গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ যেন মুক্তির স্বাদ পেয়ে সব আগল ভেঙে বেরিয়ে আসে! প্রথমে অনেকে বিশ্বাসই করতে পারেননি খবরটা। কেউ ফলতা থানায়, কেউ আবার বিধায়ককে বা বিজেপি কার্যকর্তাদের ফোন করে খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। বেলা যত বেড়েছে, এনিয়ে যাবতীয় ফিসফাস, কানাকানি পেয়েছে দৃঢ় ভিত্তি। অবশেষে তাঁরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন, আর্থিক তছরূপ, ভোটাধিকার হরণ, জমি দখল, ফলতার শিল্প ধ্বংস, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ ও মহিলাদের উপর নির্যাতনের নায়ক জাহাঙ্গির পুলিশের জালে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় গোটা ফলতার দৃশ্যপট! মহিলা, পুরুষ থেকে কমবয়সিদের রাস্তায় বেরিয়ে এসে আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়। কারও হাতে আবির, কারও হাতে মিষ্টির প্যাকেট, কারও হাতে বাতাসা, কারও হাতে আবার নকুলদানা। দোকান থেকে কয়েক কেজি জিলিপি কিনে সবাইকে মিষ্টিমুখ করালেন এক মাঝবয়সি ব্যক্তি। ‘ফলতার ত্রাস’ পুলিশের জালে পড়তেই মন্দিরে পুজো দিয়েছেন অনেকে। 

Advertisement

বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, ‘হাসিমনগরের মানুষের প্রতিবাদের ফলেই ফলতায় পুনর্নির্বাচন হল। সেখানে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে জনরোষ প্রকাশ্যে এসেছিল। মানুষের ক্ষোভ টের পেয়ে জাহাঙ্গির প্রথমে নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেললেন। তারপর ভোটের লড়াই থেকেই পালিয়ে গেলেন। এরপর ফলতা থেকেও পালালেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন, জাহাঙ্গির যত অত্যাচার করেছে, প্রতিটির হিসাব হবে। তিনি নিজে এটা দেখবেন। জাহাঙ্গিরকে গ্রেপ্তার করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা রেখেছেন।’  
২০২১ সালে ফলতা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিধান পাড়ুই। তাঁকে মারধর করে পাঁচ বছর এলাকাছাড়া করে রাখা হয়েছিল। এদিন সেই বিধানবাবু জানান, ‘এতদিন হাসতে পারিনি। আজ গঙ্গায় ডুব দিয়ে উঠে প্রাণ খুলে হাসলাম।’ ফতেপুরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের বাইরে আবির মেখে উচ্ছ্বাসে মাততে দেখা গেল কমবয়সিদের। তাঁদের সবার হাতে গেরুয়া পতাকা। মুখে বন্দেমাতরম ও জয় শ্রীরাম ধ্বনি। ফলতা কেল্লা সংলগ্ন বেলেশ্বর গ্রামে জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবল মহিলাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ। মীনা বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক গৃহবধূর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর অনেককে সেখানে ডেকে নিয়ে গিয়ে শাসানো হত। তাঁর এবং পড়শি অনেকের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলেন তাঁরা। এদিন তাঁরা মন্দিরে পুজো দিয়ে আবির মেখে আনন্দ করলেন। সরারহাটে ব্যান্ড বাজিয়ে পদযাত্রা হল। দাহ করা হয় জাহাঙ্গিরের কুশপুত্তলিকাও। জাহাঙ্গিরের দলীয় কার্যালয় ও তাঁর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। 

সম্পর্কিত সংবাদ