অভাব পেরিয়ে উৎসব, ভগবতীপুরে প্রথম দুর্গাপুজোয় মাতলেন গ্রামবাসী
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: শরতের পেঁজা তুলোর মতো মেঘ যখন আকাশে ভাসতে শুরু করে, কাশের বনে হাওয়া লাগে, তখন সারা বাংলা মাতোয়ারা হয় দেবী দুর্গার আবাহনে। আলোর রোশনাই, ঢাকের আওয়াজ আর নতুন জামার গন্ধে চারিদিক ভরে ওঠে। কিন্তু এই চির চেনা আনন্দের ধারা এতদিন প্রবেশ করতে পারেনি মল্লারপুরের ছোট্ট গ্রাম ভগবতীপুরে। অথচ এই গ্রামের নামেই জড়িয়ে রয়েছেন দেবী নিজে। অবশেষে সব বাধা ও আক্ষেপ অতিক্রম করে এ বছর এক আনন্দের জোয়ারে ভাসল ভগবতীপুর। এই প্রথমবার নিজেদের গ্রামে দেবী দুর্গার পুজো ঘিরে আনন্দে আত্মহারা পুরো গ্রাম। পুজো কমিটির সভাপতি মৌতৃষা দে জানান, রাজ্য সরকারের ঘোষিত আর্থিক অনুদান পাওয়ার ফলেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গিয়েছে। তাঁর কথায়, মানবিক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই ভগবতীপুরে এল ‘দেবী ভগবতী’।

Advertisement

১৮টি পরিবারের এই খুদে গ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা মাত্র ৬২ জন। গ্রামের একজন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, বাকি প্রায় সব বাসিন্দাই মেহনতি মানুষ- কেউ কৃষিজীবী, কেউ বা দিনমজুর। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘাম ঝরানোই যাঁদের দৈনন্দিন জীবন, তাঁদের কাছে দুর্গাপুজো করার বিপুল খরচ ছিল এক আকাশকুসুম কল্পনা। তাই পুজো এলেই মন ভার হয়ে যেত গ্রামের ছোট-বড় সকলের। ভগবতী দেবী যাঁর অপর নাম, সেই দুর্গার আরাধনা নিজের গ্রামে হয় না- এই আক্ষেপ জমা হয়ে ছিল বহুকাল। প্রতিবছর পুজোর ক’দিন পাশের তাওসিয়া গ্রামে গিয়ে দুর্গাঠাকুর দেখে আক্ষেপ মেটাতে হতো ভগবতীপুরের মানুষকে।
তবে এবার নিজেদের একতা ও প্রশাসনের আন্তরিক চেষ্টায় অবশেষে ভগবতীপুরে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার আরাধনার মহাযজ্ঞ। প্রথম বছর হওয়ায় আর্থিক অনুদান মিলবে কিনা, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গভীর সংশয় ছিল মৌতৃষা দে, মন্টু পদ মণ্ডল, কিরণ নন্দী ও সব্যসাচী দে-দের মনে। তাঁরা বলেন, আবেদন করার পর মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ভরসা রেখে মূর্তি গড়ার কাজ শুরু করি। কিন্তু সব সংশয় কেটে গিয়ে যখন রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তা এসে পৌঁছাল, তখন গ্রামের মানুষের আনন্দের বাঁধ ভাঙল।
প্রথম বছরের সীমিত বাজেট ও সময়ের কারণে এবার লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে ছাড়া কেবল একক দেবী প্রতিমার আরাধনা করা হচ্ছে। তবে গ্রামবাসীদের স্বপ্ন ও উদ্দীপনায় তাতে কোনো ভাটা পড়েনি। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ থেকে পুজোর প্রস্তুতি-সব কিছুতেই পুরো গ্রাম এখন আনন্দে মেতে উঠেছে। গ্রামবাসীরা  জানিয়েছেন, এ বছর দেবী একাই মর্ত্যে আসছেন, তবে আগামী বছর থেকে সপরিবারে দেবীকে গ্রামে নিয়ে এসে মহা ধুমধামে পুজোর আয়োজন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঝেড়ে ফেলে এই প্রথম নিজেদের গ্রামে ঢাকের কাঠি পড়ার অপেক্ষায় রাত জাগছেন সবাই। দেবী ভগবতী এবার তাঁর নামের গ্রামটিতে সত্যি সত্যিই নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছেন।