Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্সব বনাম ধর্ম, জমজমাট সন্তোষপুর লেক পল্লি, যুদ্ধবিরোধী বার্তা অ্যাভেনিউ সাউথের বিন্দুর মাহাত্ম্য বোঝাবে ত্রিকোণ পার্ক

এই বছর পুজোয় দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুরে বিতর্ক আর শিল্পের সহাবস্থান। বিতর্কের কেন্দ্র সন্তোষপুর লেক পল্লি। তাদের থিম ‘জলচিত্র’। কী নিয়ে বিতর্ক?

উত্সব বনাম ধর্ম, জমজমাট সন্তোষপুর লেক পল্লি, যুদ্ধবিরোধী বার্তা অ্যাভেনিউ সাউথের বিন্দুর মাহাত্ম্য বোঝাবে ত্রিকোণ পার্ক
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: এই বছর পুজোয় দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুরে বিতর্ক আর শিল্পের সহাবস্থান। বিতর্কের কেন্দ্র সন্তোষপুর লেক পল্লি। তাদের থিম ‘জলচিত্র’। কী নিয়ে বিতর্ক? গেরুয়া শিবির প্রশ্ন তুলেছে, দুর্গা পুজোর হোর্ডিংয়ে কেন মুসলিম নবাবের চিত্র? গেরুয়া নেতাদের অনেকের মনে হচ্ছে, এ তো ইদের বিজ্ঞাপন। সন্তোষপুরের শিক্ষিত হিন্দু বাঙালিদের বিরুদ্ধে কটূক্তিও ছুঁড়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে পুজো উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতীয় শিল্পকলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সেখান থেকে মোঘল আমলকে বাদ দেব কীভাবে? তাজমহল, কুতুব মিনার বাদ দিয়ে ভারত হয়? এটা আনন্দের উত্সব। সকলকে নিয়ে চলার উত্সব। কারওর আবেগে যদি আঘাত লাগে ওই নবাবের ছবিও আমরা সরিয়ে দিয়েছি। 

Advertisement

গত বছর সন্তোষপুর লেক পল্লি ভারতীয় স্থাপত্য নিয়ে কাজ করেছিল। দেখানো হয়েছিল অজন্তা ইলোরার গুহাচিত্র। এই বছর তাদের থিম ভারতীয় শিল্পকলা। লেকপল্লীর অন্যতম উদ্যোক্তা সোমনাথ দাস বলছিলেন, ‘আমাদের থিম ভারতীয় শিল্পকলা। ভারতীয় শিল্পকলায় মোগলদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তারপর তো ইংরেজরা আসে। আমাদের কনসেপ্ট শিল্পকলা। ভারতীয় পুরাণের উপর চিত্রকলা থাকবে। হেভেলস সাহেবের তত্ত্বাবোধানে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন, সেগুলো থাকবে। শিল্পী অনির্বাণ দাস।’ মাটির প্রতিমা তৈরি করছেন মীনাক্ষী পাল। এছাড়া মা দুর্গার একটি ছবিও থাকবে। তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে সোমনাথবাবু বলেন, ‘দিনের বেলা বিরিয়ানি খেয়ে, রাতে শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে এঁরা এসব কথা বলেন। দেশের লালকেল্লাতেও জাতীয় পতাকা ওঠে। সকলে তাজমহলও দেখতে যাবেন। তাঁরা কি এগুলো বন্ধ করে দেবেন?’ উল্লেখ্য, এরপর ২৩ সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন হবে ৬৮তম সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজো। 
আর একটু এগিয়েই ত্রিকোণ পার্ক। একেবারে টিন দিয়ে ঘিরে রেখে সেখানে কাজ চলছে। তাদের ৭৬ তম বর্ষে থিম ‘বিন্দু’। প্রতিমা তৈরি করছেন সুরজিত্ পাল ও পরিকল্পনায় রয়েছেন অসীম পাল। আবহ সঙ্গীতে দীপময় দাস। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা দেবাশিস সরকার বলছিলেন, ‘লোহা, ইট, বালি, সিমেন্ট, কাঠ, বাঁশ দিয়ে আমাদের মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। একদিন তো বিন্দু থেকেই সিন্ধু তৈরি হয়েছিল। আমরা মণ্ডপের মাধ্যমে সেটাই ফুটিয়ে তুলছি। মণ্ডপটিও গোলাকার করা হচ্ছে।’ মহালয়ার পরেই পুজো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। সন্তোষপুর লেক পল্লি আর ত্রিকোণ পার্কের মাঝে অ্যাভেনিউ সাউথ। এই বছর তাদের থিম ‘সমষ্টি’। শিল্পী পাপাই সাঁতরা বলছিলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে পরিবেশসহ মানবসভ্যতার ক্ষতি হয়েছিল। এখন আবার বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের বার্তা, এভাবে যদি মানুষ যুদ্ধ করতে থাকে তবে সভ্যতা একদিন জীবাশ্মে পরিণত হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ