ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সত্যিই বৈচিত্র্যময়। সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। সম্প্রতি শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ বাড়িতে আয়োজিত তিনদিনের অনুষ্ঠানে তারই প্রমাণ দিল দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স। প্রথমবার উত্তর কলকাতায় পা রাখল ডোভার লেন। মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার কৃতীদের নিয়ে প্রতিবছর পৃথক অনুষ্ঠান করে ডোভার লেন। সঙ্গে থাকেন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা। ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক মনোতোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘উত্তর কলকাতা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পীঠস্থান। তাই এদিকে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছিলাম। প্রথম অনুষ্ঠানেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছি।’ অনুষ্ঠানে নৃত্যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন মেহুলি ভট্টাচার্য (ভরতনাট্যম), সুস্নিগ্ধা চক্রবর্তী (ওড়িশি) ও তিতিশা ঘোষ (কত্থক)। কণ্ঠসঙ্গীতে জুঁই ধায়গুড়ে পাণ্ডে অনবদ্য। তবলা ও হারমোনিয়ামে শিল্পীকে সঙ্গত করেছেন পণ্ডিত সমর সাহা ও প্রদীপ পালিত। রাগ সঙ্গীতের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছেন সাগ্নিক সেন, রাখি চট্টোপাধ্যায়, সঞ্চালী চট্টোপাধ্যায় ও মৈত্রেয়ী রায়। কণ্ঠের জাদু দিয়ে এক মন মাতানো পরিবেশ তৈরি করেন তরুণ শিল্পীরা। সঙ্গতে ছিলেন সমীর নন্দী, সনাতন গোস্বামী, বিভাস সাংহাই, নবারুণ দত্ত, কমলাক্ষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। সরোদে সিরাজ আলি খান অনবদ্য। দক্ষতার সঙ্গে রাগ চন্দ্রনন্দন পেশ করেন শিল্পী। তবলায় যোগ্য সঙ্গত করেন রূপক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুই শিল্পীর সওয়াল-জবাব। শেষদিনে সেতার-সরোদ যুগলবন্দি দিয়ে সকলের মন জয় করে নেন ‘কেদিয়া বন্ধু’। বেহালায় বিভিন্ন বন্দিশ শোনান সৌপর্ণ ঘোষ। সব মিলিয়ে এ যেন সত্যিই সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক মিলনক্ষেত্র।



