সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে উলটো রথে ভিড় উপচে পড়ল। শুক্রবার উলটো রথে মায়াপুর ইসকনের গুন্ডিচা মন্দির থেকে রাজাপুরে নিজের মন্দিরে ফিরলেন জগন্নাথদেব। এদিন উলটো রথের সূচনা করেন নদীয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুণকুমার মণ্ডল সহ ইসকনের সাধুরা।
১৬জুলাই রাজাপুরের জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় পাঁচ কিমি পথ অতিক্রম করে মায়াপুর ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দিরে পৌঁছান জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। সেখানে পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দির বা জগন্নাথের ‘মাসির বাড়ি’। সেখানে অবস্থানকালে জগন্নাথকে রোজ ৫৬ভোগ নিবেদন করা হয়। দেশবিদেশের অসংখ্য ভক্ত সেখানে ভিড় জমান।
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজাপুর মন্দিরে জগন্নাথদেবের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়। দুপুর প্রায় পৌনে ৩টে নাগাদ ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়। রাস্তার দু’পাশে বহু ভক্ত জমায়েত করেন। তবে আয়োজকরা মনে করছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার ভিড় একটু কম ছিল।
ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, এই রথযাত্রা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটে।
নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুর জগন্নাথবাড়ির বালকসাধুর আশ্রমের রথ, প্রতাপনগরের রাধাসুদর্শন মন্দিরের পতিতপাবন জগন্নাথের রথ সহ শহরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উলটো রথ এদিন আয়োজিত হয়। বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে মহাসমারোহে উলটো রথ হয়েছে। বেশিরভাগ রথ ফেরার পথে শহরের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলায় আনা হয়। সেখানে ভক্তরা চিনি ও কলা নিবেদন করে পূজা দেন। রাস্তার দু’ধারে অসংখ্য মানুষ রথের রশি টানেন।
পোড়ামাতলায় রথের মেলায় দোকান দিয়েছিলেন চটির মাঠ এলাকার বাসিন্দা শিবু মোদক। তিনি বলেন, প্রতিবছর রথের মেলায় জগন্নাথ, বাঘ, সিংহ, গোপাল ভাঁড় সহ নানারকম পুতুলের ভালো বিক্রি হয়। তাই এবারও দোকান দিয়েছি। এদিন রথের মেলায় জিলিপি-পাঁপড়ের দোকানে ছোট-বড়দের ভিড় ছিল।