সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ইন্দাসের গোডাউনে সরকারি খাতায় ১৩১মেট্রিক টন রাসায়নিক সার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি বস্তাও দেখতে না পেয়ে হুগলির এক সার ব্যবসায়ীকে শোকজ করল কৃষিদপ্তর। এদিকে এত পরিমাণ সারের হদিশ না পাওয়ার খবর চাউর হতেই কালোবাজারির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা রুটিন মাফিক পরিদর্শনে যান ইন্দাসের চাঁদগ্রামে। সেখানে খাতায় কলমে প্রায় ২হাজার ৬২০বস্তা রাসায়নিক সার থাকার কথা। কিন্তু, বাস্তবে সারের পরিবর্তে সেখানে ডেকোরেটর্সের সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। এত পরিমাণ সার কোথায় গেল, সেই প্রশ্ন করতেই ব্যবসায়ী সদুত্তর দিতে পারেনি। তাই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। কৃষিদপ্তরের কোনো আধিকারিক এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে পীযূষ ঘোষ নামে ওই ব্যবসায়ী তাঁকে শোকজের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে এও জানান, কোনো কালোবাজারি করা হয়নি। ইন্দাসে মোটা দানার ইউরিয়ার চাহিদা নেই। সেই কারণে তিনি ইন্দাসের পরিবর্তে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডে তা রেখেছেন। তার সমস্ত হিসাব রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির কামারপুকুরের বাসিন্দা পীযূষ ঘোষ প্রায় আট বছর আগে ইন্দাসের চাঁদগ্রামে একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে সারের পাইকারি ব্যবসার লাইসেন্স করান। খাতায় কলমে তিনি সেখান থেকেই বিভিন্ন খুচরো ব্যবসায়ীদের সার সরবরাহ করছেন। কিন্তু, বাস্তবে তা না হওয়ার খবর পেয়ে শনিবার কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা ইন্দাসের চাঁদগ্রামে সারের ওই গোডাউনে হানা দেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ওই গোডাউনে ১৩১মেট্রিক টন সার থাকার কথা। কিন্তু, গোডাউনে সারের একটি বস্তাও দেখতে পাননি আধিকারিকরা। পবিবর্তে সেখানে ডেকোরেটর্সের সরঞ্জাম দেখা যায়। ওই সময় ব্যবসায়ী সেখানে ছিলেন না। তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁর কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়। যদিও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। সেই কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়। ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক জেলার নামে সার তোলা হলেও তা অন্য জেলায় নিয়ে গিয়ে কালোবাজারি করা হয়েছে বলে অনেকেই সরব হয়েছেন।
পীযূষবাবু বলেন, অবিক্রিত সমস্ত সার চন্দ্রকোণার গোডাউনে মজুত রয়েছে। সেখানকার স্টক রেজিস্টারে তার তথ্য রয়েছে। দপ্তর চাইলে সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসতে পারে। আমি নির্দিষ্ট সময়েই শোকজের জবাব দেব।