Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরতলির ভিড় কলকাতায় পৌঁছে দিতে মেট্রোর সঙ্গে জোর টক্কর ফেরি পরিষেবার

হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে শহরতলির ভিড় ছুটছে ফেরিঘাটের দিকে। গ্যাংওয়েতে শুধু গিজগিজ করছে কালো মাথা। গন্তব্য উত্তর কলকাতার পুজো মণ্ডপগুলো।

শহরতলির ভিড় কলকাতায় পৌঁছে দিতে  মেট্রোর সঙ্গে জোর টক্কর ফেরি পরিষেবার
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে শহরতলির ভিড় ছুটছে ফেরিঘাটের দিকে। গ্যাংওয়েতে শুধু গিজগিজ করছে কালো মাথা। গন্তব্য উত্তর কলকাতার পুজো মণ্ডপগুলো। পুজোর চারটে দিন হাওড়া স্টেশন ফেরিঘাটের এটাই পরিচিত দৃশ্য। এই ভিড় থেকেই ব্যাপক আয় করে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি। কিন্তু নতুন মেট্রো রুট এবারের পুজোয় বড় টেক্কা দিতে চলেছে লঞ্চ পরিষেবাকে। সেকথা মাথায় রেখেই বাড়তি লঞ্চ চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে রাতভর পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নেওয়া হচ্ছে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। 

Advertisement

বছরের অন্যান্য সময়ে হাওড়া স্টেশন ফেরিঘাট থেকে গোলাবাড়ি, আহিরীটোলা, শোভাবাজার হয়ে বাগবাজারঘাট পর্যন্ত প্রতি আধঘণ্টা অন্তর দুটো ভেসেল চালানো হয়। বাবুঘাট পর্যন্ত দুটো ভেসেল ও আর্মেনিয়াম ঘাট পর্যন্ত একটি ভেসেল চলে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই পাঁচটি ভেসেলের মাধ্যমেই হাওড়া থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন। তবে পুজোর সময় ভিড়ের এই ছবিটা আমূল বদলে যায়। হাওড়া, হুগলি ছাড়াও প্রতিবছর পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিমা দর্শন করতে ভিড় জমান কলকাতায়। ভিড় সামাল দিতে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে বাড়তি ট্রেন চালানো হলেও মূলত হাওড়া স্টেশনে নেমে যাত্রীরা মূল সমস্যায় পড়েন। ঠিকঠাক ক্যাব মেলে না বলে অভিযোগ। হাওড়া ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া বাসের যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সেই ভিড়কে স্বস্তি দিতে প্রতিবছরই গভীর রাত পর্যন্ত বাড়তি লঞ্চ পরিষেবা দেয় হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমিতি। কিন্তু এবছর সমিতিকে টেক্কা দেবে হাওড়া ময়দান সেক্টর ফাইভ নয়া মেট্রো লাইন। বলা বাহুল্য, ভিড়ের বড় অংশ বাতানুকূল বগিতেই সওয়ার হবে।
সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেট্রোর সঙ্গে পাল্লা দিতে এবছর পুজোয় আটটি লঞ্চ চালানো হবে। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত রাত ১২টা পর্যন্ত পরিষেবা মিললেও প্রয়োজন অনুযায়ী সারারাত পরিষেবা দেওয়া হতে পারে। প্রতিটি ঘাটে লাইট, লাইফ জ্যাকেট, বয়ার ব্যবস্থা থাকবে। হাওড়ার দুটো জেটিঘাট, গোলাবাড়ি ঘাট, আইডলঘাট, বাগবাজার ও শোভাবাজার ঘাটে মোতায়েন থাকবে নিরাপত্তারক্ষী ও ডুবুরি। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার নুরপুর, গাদিয়াড়া, নাজিরগঞ্জ ঘাটগুলোতেও বাড়তি সার্ভিস মিলবে। হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির ডিরেক্টর অজয় দে বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি এজেন্সির সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।’ নতুন মেট্রো রুট পুজোয় চিন্তার কারণ হবে না বলেই দাবি করছে সমিতি। জানা গিয়েছে, গতবছর পুজোর পাঁচদিনে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়েছিল। এবছর সেই আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী। হুগলির মানকুন্ডুর বাসিন্দা চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘মেট্রো হওয়ায় অফিস যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখনই যা ভিড়, পুজোর সময় কতটা ভালো পরিষেবা পাওয়া যাবে বলা মুশকিল। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে। তার চেয়ে লঞ্চই ভালো।’ শহরতলি থেকে আসা নিত্যযাত্রীদের আরও কয়েকজন বলেন, ‘পুজোর সময় গঙ্গার হাওয়া খেতে খেতে উত্তর কলকাতায় পৌঁছে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ