Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৃহশিক্ষিকাকে মার, শ্লীলতাহানির অভিযোগ, কুপার্সে বিজেপি নেতার ছেলের দাদাগিরি

গৃহশিক্ষিকাকে মার, শ্লীলতাহানির অভিযোগ, কুপার্সে বিজেপি নেতার ছেলের দাদাগিরি
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভর সন্ধ্যায় মধ্যবয়স্ক এক মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করার এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। চঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রানাঘাট থানার কুপার্স ক্যাম্প এলাকায়। গুরুতর জখম ওই মহিলা আপাতত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পুলিস কুপার্স ক্যাম্প এলাকার ওই দাপুটে বিজেপি নেতার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মারধর এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার সন্ধ্যায়। আক্রান্ত মহিলা কুপার্স ক্যাম্পের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গৃহবধূ ওই মহিলা কুপার্স ক্যাম্প এলাকায় প্রাইভেট টিউশন পড়ান। একটি বাড়ি পড়িয়ে ফিরছিলেন তিনি। সেইসময় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেএসপি মাঠের সামনে ওই মহিলার সাইকেলে ধাক্কা লাগে কুপার্স শহর মণ্ডল বিজেপির সহ-সভাপতি পরিতোষ মাঝির মেয়ের স্কুটির। তা নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর বিজেপি নেতার মেয়ে তার ভাই রাহুল মাঝিকে ডেকে পাঠায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসে পরিতোষের ছেলে। এরপর শুরু হয় তার দাদাগিরি। প্রথমে ওই মহিলার জামার কলার মুঠো করে ধরে মারমুখী হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিরোধ হতেই রাহুল ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই মহিলার উপর। প্রথমে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। মারধরে মহিলার বাঁ চোখের উপর, নাক, ঠোঁট সহ একাধিক জায়গা ফেটে যায়। এরপর রাহুল মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। যদিও ততক্ষণে আশপাশের লোক এসে মহিলাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। গুরুতর জখম মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে। গোটা ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় শনিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে কুপার্স ক্যাম্প ফাঁড়ির পুলিস। কুপার্স শহর মণ্ডল বিজেপির সহ সভাপতি পরিতোষ মাঝির বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর ছেলে অভিযুক্ত রাহুলকে। তার বিরুদ্ধে ওই মহিলাকে খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি সহ আরও একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ছেলের মারধরের কথা স্বীকার করে নেন বিজেপি নেতা পরিতোষ। তিনি বলেন, বচসা চলাকালীন আমার ছেলে ওই মহিলার কলার ধরেছিল, এটা ঠিক। কিন্তু ওই মহিলা আমার মেয়েকে মারধর করছিল। চোখের সামনে দিদির গায়ে হাত তুলছে দেখে আমার ছেলে ওই মহিলার গায়ে হাত তুলেছে এটাও সত্যি। যদিও ওই মহিলার মুখে চোট লেগেছে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার কারণে। আর উঠতে গিয়ে সাইকেলের রডে লেগে ওই মহিলার জামা ছিঁড়ে যায়। শ্লীলতাহানির অভিযোগ মিথ্যা। যেখানে নিজের দিদি উপস্থিত রয়েছে, সেখানে কী করে সে একজন মহিলা শ্লীলতাহানি করবে? আমি বিরোধী রাজনীতি করি বলেই আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। আক্রান্ত মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছেন কুপার্স তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ দাস। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর পরিতোষ মাঝির মেয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি ওর পাশে দাঁড়াতে চাইনি। কারণ এটা আইনের প্রশ্ন। তাছাড়া পরিতোষ বিজেপির দাপুটে নেতা। ভাই-বোন মিলে একজন মহিলাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করলে আমি সেটা সমর্থন করার মানুষ নয়। এই অসভ্যতামি বন্ধ হওয়া উচিত। মেয়েদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এবার আইন আইনের পথে চলবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ