সংবাদদাতা, চাঁচল: ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মালদহের এক মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকের। চেন্নাইয়ে কাজ করার সময় বহুতল থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মুসকান খাতুন (২০)। তাঁর বাড়ি চাঁচল-২ ব্লকের মালতীপুরের গঙ্গাদেবী ফকিরপাড়ায়। রবিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দেড়েক আগে সপরিবারে চেন্নাই যান মুসকান। সেখানে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে ছিলেন বাবা, মা, স্বামী, এক বছরের শিশুকন্যা ও ছোট ভাই। প্রতিদিনের মতো রবিবার বাবা, মা ও স্বামীর সঙ্গে নির্মাণকাজে যান মুসকান। শিশুটি তখন দিদার কোলে ছিল। কাজ শেষে উপরের তলা থেকে কিছু টুকরো জিনিস নীচে ফেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাক্রমে আটতলা থেকে পড়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর কফিনবন্দি দেহ নিয়ে রওনা দিয়েছে পরিবার। বুধবার দেহ গ্রামে ফেরার কথা।
মৃতার প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম বলেন, পরিবারটি এলাকায় অভাবী বলে পরিচিত। সংসারে অনটনের জন্য স্বামীর সঙ্গে মুসকানও এক বছরের শিশুকে নিয়ে ভিনরাজ্যে যান।
মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু এলাকায় এর আগে ঘটেনি। স্ত্রীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বামী সাঞ্জু শেখ। তিনি বলেন, সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্য আনতে স্ত্রীও আমার সঙ্গে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু সব ওলটপালট হয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। তিনি বলেন, দেহ ফেরার সময় তাঁদের বাড়িতে যাব। পরিবারটিকে সবরকম সাহায্য করা হবে।
চাঁচলের মহকুমা শাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, পরিবারটি বাড়ি ফিরলে পর্যাপ্ত সাহায্য করা হবে। অন্যান্য সরকারি সুবিধা যাতে পান, প্রশাসনের তরফে দেখা হবে।