Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিলা চিকিত্সককে হেনস্তা রোগীর আত্মীয়দের, চাঞ্চল্য, বাইরে থেকে কেনা ইঞ্জেকশন দিতে জোর

হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের কাজে বাধা দেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল মালদহের চাঁচল ২ ব্লকের মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে।

মহিলা চিকিত্সককে হেনস্তা রোগীর আত্মীয়দের, চাঞ্চল্য, বাইরে থেকে কেনা ইঞ্জেকশন দিতে জোর
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের কাজে বাধা দেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল মালদহের চাঁচল ২ ব্লকের মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার জেরে ব্যাঘাত ঘটে চিকিৎসা পরিসেবায়। বৃহস্পতিবার চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আক্রান্ত চিকিৎসক তথা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার অনুরাধা মৈত্র। তবে, রোগীর পরিবারের পরিচয় জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 

Advertisement

চাঁচল ২ ব্লকের গৌরহন্ড, মালতীপুর, জালালপুর সহ সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। এখানে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ৩০টি শয্যা থাকলেও তার বেশি রোগী ভর্তি হন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে ভর্তি হন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব এক রোগী। সেই সময় ডিউটিতে ছিলেন অনুরাধা। নিয়মানুযায়ী তিনি ওই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন বলে দাবি। সেই সময় এক মহিলা আত্মীয় ব্যাগ থেকে ইঞ্জেকশন বের করে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করার কথা বলেন। চিকিৎসক সেই ইঞ্জেকশনের প্রেসক্রিপশন চাইলে তা দেখায়নি পরিবার। তবুও ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে চিকিৎসককে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, চিকিৎসকের দিকে তেড়ে যান রোগীর আত্মীয়। শারীরিক হেনস্তা থেকে বাঁচতে করিডরে থাকা কেবিনে ঢুকে পড়েন চিকিৎসক। তাঁকে গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ। 
এদিন থানায় অভিযোগ করার পর অনুরাধা বলেন, বাইরে থেকে এসে আমরা  চিকিৎসা পরিষেবা দিই। যদি এভাবে হেনস্তা হতে হয়, কীভাবে কাজ করব? ভুল ওষুধ দিলে তো ক্ষতি হয়ে যাবে। নিয়ম মেনেই কাজ করছিলাম। ঘটনার পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
চাঁচল ২ এর বিএমওএইচ সৈয়দ ইকবাল বলেন, হাসপাতালে এরকম ঘটনা কাম্য নয়। একজন হোমগার্ড হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হলে পরিষেবা দিতে আরও সুবিধা হবে।
এপ্রসঙ্গে চাঁচল থানার এক পুলিশ আধিকারিকের মন্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ছিল বলে সেখানকার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে আরও কড়া হয়, তা দেখা হচ্ছে।
মালতীপুরের বিধায়ক তথা ওই হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে দুর্বব্যহার না করেন, সে বিষয়ে সচেতন করা হবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ