নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জট কাটছে। অন্তত ভারতীয় ফুটবলের সাম্প্রতিক অচলাবস্থা কাটার ইঙ্গিত মিলল ফেডারেশনের এজিএমে। শীর্ষ লিগের স্বত্ব নিজেদের হাতে নিতে মরিয়া ছিল আইএসএলের ক্লাব জোট। ২৪ ঘণ্টা আগেই নিজেদের শর্তাবলী তারা কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকে পাঠিয়ে দেয়। প্রতিলিপি পৌঁছে যায় সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার হাতে। শনিবার বার্ষিক সাধারণ সভার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তবে ক্লাবজোটের প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দেন ফেডারেশন কর্তারা। পাশাপাশি লিগ চালাতে বাংলা, গোয়া ও কেরল রাজ্য সংস্থার সচিবকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটিও গঠিত হল। সূত্রের খবর, আগামী ২৯ ডিসম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। প্রস্তাবিত রোডম্যাপ পেলেই লিগ শুরুর ঘোষণা করবে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। শোনা যাচ্ছে, ফান্ড জোগাড় হলে জানুয়ারির শেষে মাঠে বল গড়াতে পারে। কমিটিতে রয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাঁর মন্তব্য, ‘দায়িত্ব বাড়ল। সবাই মিলে চেষ্টা করে জট খুলতে হবে।’
কোন অংকে ক্লাব জোটের প্রস্তাব খারিজ করল ফেডারেশন? লিগ চালানোর পাশাপাশি এআইএফএফকে বার্ষিক ১০ কোটি মুনাফার প্রস্তাব দিয়েছিল জোট। কিন্তু তার বদলে কার্যত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্ত দেওয়া হয়। অর্থাৎ বার্ষিক ১০ কোটির বিনিয়মে বরাবরের মতো স্বত্ব বিক্রি করতে হবে ফেডারেশনকে। ফুটবল কর্তারাও এমন প্রস্তাবে তাজ্জব। শুক্রবার রাতেই প্রতিবাদ জানিয়ে ফেডারেশন সভাপতিকে ই-মেল করেন সিনিয়র কর্তারা। পালস বোঝা গিয়েছিল তখনই। এদিন নয়াদিল্লির ফুটবল হাউসে কার্যত স্টেপ আউট করে যাবতীয় প্রস্তাব গ্যালারিতে পাঠান তাঁরা। পাশাপাশি বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এদিন হঠাৎই চিঠি পাঠায় আই লিগের ক্লাব জোট। ১৫ বছরে তারা ৫০ কোটি মুনাফা দিতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞ কর্তাদের ধারণা, এতে ফেডারেশনের রাজি হওয়া আসলে অস্তিত্ব সংকটের শামিল। ফেডারেশনের হারানোর ছিল না কিছুই। গা-ঝাড়া দিয়ে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া সেই মানসিকতার প্রতিফলন। ফুটবল হাউসে শুধু বেতন বাবদ ৫ কোটির কাছাকাছি খরচ হয়। অন্য টুর্নামেন্ট ও অ্যাকাডেমি তো রয়েইছে। ১০ কোটিতে জল গরমও হয় না।
লিগ চালাতে টাকা প্রয়োজন। এফএসডিএল একান্ত না থাকলে অর্থের সংকুলান কী করে হবে? শোনা যাচ্ছে, অন্তত চলতি মরশুমের মতো স্পনসর জোগাড় করার চেষ্টা চলছে পুরোদমে। প্রয়োজনে ফরম্যাট বদলে সীমিত ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজিত হবে। সম্প্রচারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের পাশাপাশি বিকল্প ভাবা হচ্ছে। কলকাতার তিন প্রধান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে জট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। লিগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় আশার আলো লাল-হলুদেও।