নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা হংকংয়ের কাছে হার ভারতের। মঙ্গলবার সুনীল ছেত্রীদের এই হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর থেকেই সমালোচনা জেরবার ফেডারেশন। জামাই আদর করে মানোলো মার্কুয়েজকে যেভাবে কোচের পদে বসিয়েছিলেন কল্যাণ চৌবে অ্যান্ড কোং, তা অনেকেই ভালোভাবে নেননি। শোনা যাচ্ছে, দলের এমন জঘন্য পারফরম্যান্সের রাতেই নাকি জাতীয় দলের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। উল্লেখ্য, এই ইচ্ছে তিনি অনেক আগেই প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর, ভারতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে পাকাপাকিভাবে এফসি গোয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চান তিনি। ইতিমধ্যেই নাকি ফেডারেশন কর্তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন মানোলো। যদিও এআইএফএফ’এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংস্থার অন্যতম কর্তা সত্যনারায়ণ জানান, ‘কোচের পক্ষ থেকে এখনও আমরা কোনওরকম ইস্তফাপত্র পাইনি। সুতরাং এই বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’ সূত্রের খবর, মানোলোকে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে নারাজ ফেডারেশন। কারণ, সেক্ষেত্রে তাঁকে দিতে হবে বিশাল ক্ষতিপূরণ। তাই ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’-এর সম্ভাবনাই বেশি। আর পরবর্তী কোচের দৌড়ে নাম জোরালো হচ্ছে খালিদ জামিলের। মুম্বইকর কোচও জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।
গত দেড় দশকে ক্রমশ পিছিয়েছে ভারতীয় ফুটবল। সূত্রের খবর, হংকংয়ের কাছে হারে ফলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩ নম্বরে নামতে চলেছে ভারত। দলের এমন হতশ্রী ফলের জন্য কোচের পাশাপাশি ফুটবলাররাও সমান দোষে দোষী। লিস্টন-আপুইয়াদের দেখে একবারও মনে হয়নি, তাদের মধ্যে জেতার বিন্দুমাত্র খিদে রয়েছে। অথচ ক্লাব ফুটবলে তাঁদের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে দিনের পর দিন প্রশংসা কুড়চ্ছে। তাহলে দেশের জার্সিতে তাঁদের এমন খেলার কারণ কী? ফেডারেশন কর্তারাও এর উত্তর খুঁজছেন। তাঁদের দাবি, ‘আমাদের তরফ থেকে কোনওরকম ত্রুটি থাকছে না। উন্নত পরিকাঠামো। ম্যাচের আগে দীর্ঘ সময় ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি অ্যাওয়ে ম্যাচে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দেড় সপ্তাহ আগে দল বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। তার পরেও দলের এই হাল। অবশ্যই কোচের কাছে এর জবাবদিহি চাওয়া হবে।’
এদিকে, দলের হতশ্রী পারফরম্যান্সের পরেও ফাটা রেকর্ডের মতো আশার বাণী শুনিয়ে চলেছেন মানোলো। মঙ্গলবার ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘ছেলেরা হারার মতো ফুটবল খেলেনি। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে সহজেই ম্যাচটা জিততে পারতাম। তবে এখনও আমাদের কাছে এশিয়ান কাপে মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিই কি তাঁর প্রশিক্ষণে এই দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? প্রাক্তনরা অবশ্য এখনও কোচ বদলের সুর চড়াচ্ছেন। তবে দিল্লি ফুটবল হাউজে ঠান্ডা ঘরে বসে থাকা কর্তাদের কানে কি সেই আওয়াজ পৌঁছবে, সেটাই দেখার।