Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

‘এবার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা উচিত ফেডারেশন কর্তাদের’

২০ জানুয়ারি, ২০২৫। নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার অফিসে বার্ষিক সাধারণ সভা। রাজধানীর কনকনে ঠান্ডাও মিটিং ঘিরে উত্তাপ কমাতে পারছে না।

‘এবার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা উচিত ফেডারেশন কর্তাদের’
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

অনির্বাণ দত্ত: ২০ জানুয়ারি, ২০২৫। নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার অফিসে বার্ষিক সাধারণ সভা। রাজধানীর কনকনে ঠান্ডাও মিটিং ঘিরে উত্তাপ কমাতে পারছে না। আইএসএল তখনও অনিশ্চিত। মারাত্মক চাপে ফেডারেশন। জটিলতা কাটাতে সেই মিটিংয়েই তিন সদস্যের কমিটির প্রস্তাব করলেন ফেডারেশন সভাপতি। গোয়া ফুটবল সংস্থার সভাপতি কাইতানো ফার্নান্ডেজ, কেরলের নাভাস মিরন ছাড়াও কমিটিতে রাখা হয় আমাকেও। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বাস করুন, নার্ভাস হইনি এতটুকু। বরং ফুটবল ফেরাতে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল আমাদের কমিটি। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ফুটবলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অবশেষে যাবতীয় জট ছাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরুর ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। আশঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরছে ফুটবল মহলে। তাই কমিটির সদস্য হিসাবে আমি গর্বিত। তবে মনের মধ্যে সামান্য আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, কমিটি স্রেফ সাময়িক ড্যামেজ কন্ট্রোলের ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না মিললে ফুটবলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কমার্শিয়াল পার্টনার বেছে নেওয়ার কাজে দেরি হলে ফের সমস্যা দেখা দেবে। তাই কমিটির প্রস্তাব বিবেচনা করে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা উচিত ফেডারেশনের।

Advertisement

ক্লাব জোট বনাম ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। সমাধানসূত্র খোঁজা মোটেও সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত বরফ গলার রসায়ন কী? পাঠক, ড্রেসিং-রুমের নেপথ্য কাহিনি শোনাতে আজ কোনও বাধা নেই। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল, ক্লাবজোটের সঙ্গে ফেডারেশনের দূরত্ব বিস্তর। হয়তো অনেকেই এআইএফএফ’কে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাদের আস্থা ফেরানোই ছিল প্রথম কাজ। ব্যক্তিগত স্তরে বিভিন্ন ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করে কমিটি। সমস্যার শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা অনেকটাই সফল।
আমার উপলব্ধি, দল নামাতে বেশিরভাগ ক্লাবই ইচ্ছুক ছিল। এরপর কমিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব দারুণভাব মনে ধরে তাদের। কিন্তু বিধি বাম। শর্ট টার্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জট তৈরি হয়। বাড়তি ইনভেস্ট করতে বিন্দুমাত্র তৈরি নয় ক্লাবজোট। এমনকী, কমার্শিয়াল পার্টনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হয়। কিন্তু আপোস না করে নরমে-গরমে রিপোর্ট পাঠানো হয় ফেডারেশনে। সেই ফর্মুলাতেই বাজিমাত। কিছুক্ষেত্রে জোটের দাবি ন্যায্য। কিন্তু ফেডারেশনকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাধান হয় না। ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এভাবেই এগতে চাই।
(লেখক আইএফএ সচিব। মতামত ব্যক্তিগত)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ