Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

‘ফেডারেশন কর্তারা এবার সত্যিই লোক হাসাচ্ছেন’

ভারতীয় ফুটবলকে ঘুমন্ত দৈত্য বলেছিলেন সেপ ব্লাটার। হয়তো প্রবল সম্ভাবনা চোখে পড়েছিল তাঁর।

‘ফেডারেশন কর্তারা এবার সত্যিই লোক হাসাচ্ছেন’
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

গভীর অন্ধকারে ভারতীয় ফুটবল। দেশের এক নম্বর লিগ আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। অস্তিত্ব সংকটে কোচ থেকে ফুটবলাররা। কিন্তু তাতে বিচলিত নন ফেডারেশন কর্তারা। বরং তাঁরা ব্যস্ত নিজেদের গদি টিকিয়ে রাখতে। বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে কলম ধরলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার শিশির ঘোষ

Advertisement

ভারতীয় ফুটবলকে ঘুমন্ত দৈত্য বলেছিলেন সেপ ব্লাটার। হয়তো প্রবল সম্ভাবনা চোখে পড়েছিল তাঁর। ব্লাটার সাহেব কি জানেন সেই দৈত্য আজও ঘুমে অচেতন? আড়মোড়া ভাঙা দূর, ফুটবল খেলাই লাটে ওঠার জোগাড়। পিকে, চুনী, বলরামের দেশে ফুটবলই ব্রাত্য! স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বিসর্জনযাত্রা এগিয়ে চলেছে গঙ্গার ঘাটের দিকে। আইএসএল হবে তো? নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেউই। ফেডারেশন কর্তারা সার্কাসের জোকার। লোক হাসাতে ব্যস্ত। এভাবে চললে ফুটবল মিউজিয়ামে পৌঁছোনো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে আমি লজ্জিত, ক্ষুব্ধ, ব্যথিত। ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাদের কথা ভাববেন কে? কুর্সি বজায় থাকলেই খুশি সবাই। গোল্লায় যাক ফুটবল। এমন চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত খেপের মাঠে ভিড় বাড়বে। সেখান থেকে ফিরে আসা খুবই কঠিন। ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। 
ফিফার তালিকায় ১৪২ নম্বরে ভারত। ক্লাব ফুটবলের রমরমা উধাও অনেকদিন। রোভার্স, ডিসিএম, স্ট্যাফোর্ড, নাগজি, কলিঙ্গ কাপের মতো পরের পর টুর্নামন্ট বন্ধ। একটা সময় অফিস ফুটবল বাদেও গড়ে ৫০-৬০টি ম্যাচ খেলতাম আমরা। সেসব স্রেফ গল্পকথা। আইএসএলের হাতে গোনা ম্যাচেই মরশুম শেষ। নিয়মিত না খেললে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে বাধ্য। জাতীয় দল হোক বা ক্লাব ফুটবল, সেই দুর্দশা সর্বত্র। আসলে ফুটবলকে বলি দিয়েছে ফেডারেশন। রোডম্যাপ, গ্রাসরুট প্রোগ্রাম, অ্যাকাডেমি সবই ভাঁড়ে মা ভবানী। ফাঁপা প্রতিশ্রুতি আসলে মিথ্যার জাহাজ।
প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির আমলে জাতীয় লিগ শুরু হয়। এরপর নতুন মোড়কে আই লিগের প্রবর্তন। কলকাতা, গোয়া, কেরল, নর্থইস্ট এমনকী পাঞ্জাবের ম্যাচও দর্শক টানত মাঠে। এখন সবই ইতিহাস। সুপার কাপ ফাইনালে গোয়ার গ্যালারি দেখে কান্না পাচ্ছিল। হাতে গোনা দর্শক ও কয়েকটা কাক ছাড়া গ্যালারি খাঁ খাঁ। এর দায় ফেডারেশনকেই নিতে হবে। ফুটবলকে লাভজনক করার কোনও প্রচেষ্টাই নেই। কোনওরকমে আয়োজন করেই দায় এড়ানো। এর আগে হতাশায় মাহিন্দ্রা, সালগাওকর, জেসিটি, ভিভা কেরল, পুনে এফসি’র মতো ক্লাব দল তুলে নিয়েছে। আদতে সেটা ছিল অশনি সংকেত। কার্যত হলুদ কার্ড। সতর্ক হও। অন্যথায় কপালে দুঃখ আছে। সেই লিখন পড়তে পারেননি অযোগ্য কর্তারা। এফএসডিএলের টাকায় মোচ্ছব চলেছে। ভারতীয় ফুটবল এক ইঞ্চিও এগোয়নি। বিপদ আসন্ন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। এখন জল বইছে নাকের উপর দিয়ে। ভরা ডিসেম্বরেও লিগের দেখা নেই। সমর্থকরা চাতক পাখির মতো সুসংবাদের অপেক্ষায়। অথবা মিটিংয়ের জাবর কাটা দেখে ক্লান্ত। 
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ