নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান আঘাতের সম্মুখীন সুন্দরবনের মোহনার বাস্তুতন্ত্র। গত কয়েক দশকে সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে জলের উষ্ণতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই বদলে গিয়েছে জলে পিএইচ (অম্লত্ব)-এর মাত্রাও। ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতেই নদীর জলের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার প্রমাণও মিলছে এখন থেকে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের জলে কার্বন ডাই অক্সাইডের অতিরিক্ত মাত্রায় শোষণ ঘটছে। আর সেই কারণে সুন্দরবন অঞ্চলে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াদের খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সুমিত মণ্ডলের নেতৃত্বে স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং আহমেদ শাহির নামে দুই গবেষকের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই তাঁরা এই আশঙ্কা স্পষ্ট করেছেন। গবেষকদের দাবি, নদীর জলের তাপমাত্রা ১-৪ ডিগ্রি বাড়লেই ম্যাক্রোবেন্থিক প্রজাতি বা অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রাণীর অস্তিত্ব সঙ্কট হয়ে দাঁড়ায়। এরা মূলত মোহনার তলদেশে বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে পলিকিট, মলাস্ক, একাইনোডার্ম, ক্রাস্টেসিয়ান ইত্যাদি। এরাই আবার মোহনা অঞ্চলে বসবাসকারী মাছের খাদ্যের অন্যতম উৎস। ফলে সার্বিক বাস্তুতন্ত্রেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সুমিতবাবু জানান, ‘এস্চুয়ারিন, কোস্টাল অ্যান্ড সেলফ সায়েন্স’ নামে একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল সুন্দরবনের ঠাকুরান নদীকে। সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় ১৩৩ প্রজাতির এই ধরনের প্রাণী। তাদের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করার জন্য একটি বৈশিষ্ট্য-ভিত্তিক শ্রেণিবদ্ধ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। তার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, উষ্ণায়ন এবং জলে অম্লত্বের কারণে ম্যাক্রোবেন্থিক প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যার অর্থ হল, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া সহ জলজ প্রাণীর খাদ্যভাণ্ডারেও টান পড়বে অচিরেই। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মেগেলোনা সিনটা নামক প্রাণীটি সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়ি অঞ্চলে ব্যাপক সংখ্যায় পাওয়া যায়। এটি কাঁকড়া ও চিংড়ির অন্যতম প্রিয় খাদ্য। জলের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এদের সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে কমে যাবে। এরকম আরও বেশ কিছু প্রাণী আছে, যেগুলি দাঁড়িয়ে আছে বড়সড় বিপদের মুখে।



