Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিষের আগে মাজরা হানা, কড়া বিষ প্রয়োগেও মরছে না! ধান উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতির আশঙ্কা

ধানজমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় পূর্ব বর্ধমান জেলার ধানচাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। দুই থেকে তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করার পরও ধানজমি রেহাই পাচ্ছে না।

শিষের আগে মাজরা হানা, কড়া বিষ প্রয়োগেও মরছে না! ধান উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতির আশঙ্কা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধানজমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় পূর্ব বর্ধমান জেলার ধানচাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। দুই থেকে তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করার পরও ধানজমি রেহাই পাচ্ছে না। অনেক জমিতে শীষ আসার সময় হয়েছে। এই সময় পোকার আক্রমণ হওয়ায় অনেকেই সিদুঁরে মেঘ দেখছেন। মেমারি, সাতগেছিয়া, বিজুড়সহ বিভিন্ন এলাকার জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। চাষিরা বলেন, মাজরা পোকার আক্রমণ প্রতিবারই দেখা যায়। মূলত ধান নিড়ান দেওয়ার সময় কীটনাশক প্রয়োগ করলেই পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যেত। এবার এখনও পোকার দাপট রয়েছে।

Advertisement

বিজুড়-২ ব্লকের চাষি বিকাশ ঘোষ বলেন, এবছর অসময়ে মাজরা পোকার আক্রমণ  হয়েছে। ধানগাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন লাভ হচ্ছে না। অনেকেই জমিতে এরমধ্যে দু’বার কীটনাশক দিয়েছে। তারপরও মাজরা পোকা নির্মূল করা যায়নি। আর এক চাষি বলেন, এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় ধানগাছ ভালোই হয়েছে। সব জমিতেই ধান রোপণ করা গিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই মাজরা পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বহু জমির ধানচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলনও কমে যেতে পারে। শীষ আসার সময় পোকার আক্রমণ হলে ফলন ভালো হয়। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, চাষের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। সারের দাম আকাশ ছোঁয়া। আগে অল্প কীটনাশক প্রয়োগ করলেই হতো। কিন্তু এখন বেশি টাকা খরচ করে একাধিকবার কীটনাশক দিতে হচ্ছে। তারপরও ফলন কী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এবছর অনেক জমিতে দু’বার করে ধানের চারা রোপণ করতে হয়েছে। লাভ না পাওয়া গেলে চাষিদের পথে বসতে হবে। ডিডিএ অমল মণ্ডল বলেন, ব্যাপকভাবে পোকার আক্রমণ হয়নি। অল্প কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাতে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
চাষিরা বলেন, পোকার আক্রমণ রোধ করা গেলে এবারও ধানের ফলন বেশি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধান গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এছাড়া চড়া রোদেও ধান জমির উপকার হয়েছে। পোকার দাপট কমলে চাষিরা লাভবান হবে। ফলন ভালো হবে ধরে নিয়েই খাদ্যদপ্তর ধান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার প্রত্যন্ত এলাকায় ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বনির্ভরগোষ্ঠী বা সমবায় সমিতিগুলিকেও বেশি করে ধান কেনার জন্য বলা হয়েছে। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এই সময়টা ধান চাষের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। চাষিদের নিয়ম করে মাঠে যেতে হবে। পোকার আক্রমণ হলেই কীটনাশক দিতে হবে। মাজরা পোকার আক্রমণ সাধারণত ধান গাছের নীচের দিকে হয়। সময় মতো কীটনাশক প্রয়োগ করলেই এই পোকার আক্রমণ থেকে নিস্তার মিলবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ