নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘অসুস্থ’ অবস্থাতেই যাত্রী নিয়ে ছুটছে বাস। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। যে কোনও সময় বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের উল্লাস, নবাবহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণ দপ্তর তার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি বাসগুলিও চেকিং করা হয়। বাসগুলি ঠিক রুটে চলছে কি না, চাকা বা টায়ারের পরিস্থিতি কী রয়েছে সব খতিয়ে দেখা হয়। এদিন তিনটি বাসকে ‘আনফিট’ চিহ্নিত করে মোটা টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, প্রতিটি বাসের ফিটনেস থাকতে হবে।
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, লাগাতার অভিযান চালানো হবে। বহু বাসের শহরের ভিতর দিয়ে চলার অনুমতি নেই। তারপরও বাস চালকরা শহরের রাস্তা ব্যবহার করেন। বিশেষ একটি সংস্থার বাসও শহরের রাস্তা ব্যবহার করছে। তাতে শহরে যানজটের সমস্যা বাড়ে। এক আধিকারিক বলেন, বেশকিছু সরকারি বাসও নিয়ম মানছে না। কিছু ‘অনফিট’ বাস চালানো হচ্ছে। তার জেরে যাত্রীদের ঝক্কি পোহাতে হয়। প্রায় মাঝ রাস্তাতে বাস বিকল হয়ে যায়। বিশেষ করে বহু বাসে পুরনো টায়ার ব্যবহার করা হয়। মাঝ রাস্তায় টায়ার ফাটার সমস্যা হামেশাই ঘটে।
বর্ধমানের উল্লাসমোড়ে বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তরুণ গোস্বামী। তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলি তবুও ফিটনেসের ব্যাপারে সতর্ক। কিন্তু বহু সরকারি বাস সেসব তোয়াক্কা করে না। প্রায়ই মাঝ রাস্তায় বাস দাঁড়িয়ে যায়। কয়েক মাস আগে যাত্রীরা চাঁদা তুলে টায়ার সারিয়েছিল। সরকারি বাসগুলি ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার। তা না হলে যে কোনও দিন বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে।
এক আধিকারিক বলেন, অনেক বাস রুট মেনে চলে না। তারজেরেও বিভিন্ন সময় সমস্যা হয়। বাসের সব কিছুই ঠিক রাখা দরকার। বসার সিট ঠিক না থাকলে সেক্ষেত্রেও ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হতে পারে। যাত্রীদের কোনওভাবেই সমস্যায় ফেলা যাবে না। লাগাতার অভিযান করা চলবে। যেসব বাস নিয়ম মানবে না তাদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হবে। এদিন দূরপাল্লার বাসগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে। পরে মিনিবাস বা লোকাল বাসগুলিতেও অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি বাসে প্যানিক বোতাম লাগানোর জন্য বলা হয়ছিল। সেই নির্দেশও সব বাসের মালিকদের মানতে হবে। এছাড়া বহু যানবাহনের দূষণ সংক্রান্ত সমস্যা থাকে। কোনও বাস থেকে যাতে দূষণ সংক্রান্ত সমস্যা না হয়, সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এদিন উল্লাস বা নাবাবহাট এলাকায় সকাল থেকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে অভিযান চালানো হয়। পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে পুলিসও ছিল।