Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিন্ন ধরনের ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে হুগলিতে

পরিবার সহ নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনা পরপর বেশ কয়েকটি ঘটেছে হুগলিতে।

ভিন্ন ধরনের ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে হুগলিতে
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোথাও অনটন, কোথাও আবার পারিবারিক জটিলতা। পরিবার সহ নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনা পরপর বেশ কয়েকটি ঘটেছে হুগলিতে। গত এক মাসে এমন তিনটি ঘটনা সামনে এসেছে। মে মাসের প্রথম ও শেষপর্বে সপরিবারে খুন বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে চন্দননগরে। বুধবার প্রায় একই রকম ঘটনার সাক্ষী হয়েছে উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী। অভিযোগ, শিশুকন্যা ও স্ত্রীকে নিজের হাতে খুন করেছে এক যুবক। তারপর নিজের গলাতেও ছুরি চালিয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা, রক্তস্রোত ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে নাগরিকদের।

Advertisement

গোটা পরিবারকে খুন করে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা কেন? এমন ঘটনায় বিচলিত সমাজতত্ত্ব থেকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। উঠে আসছে নানা তত্ত্ব। সমাজতত্ত্বের গবেষকদের একাংশের দাবি, সহনাগরিকদের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছে মানুষ। তৈরি হয়েছে অদৃশ্য জন-বিচ্ছিন্নতা। তা থেকেই ঘটছে সপরিবারে খুন বা আত্মহত্যার ঘটনা। যা ভিন্ন আঙ্গিকের ‘অনার কিলিং’। অর্থসঙ্কট, অসহিষ্ণুতা, ছোট পরিবার, এসব বিষয়ও আছে। কিন্তু মূল ভূমিকা নিচ্ছে সমাজজীবনে সহ নাগরিকের প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধার অভাব। ডানকুনির বাসিন্দা সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক প্রিয়ঙ্কর দাস বলেন, এও এক ‘অনার কিলিং’। ভালো করে ভাবলেই সমস্যাটা বোঝা যায়। একজন ব্যক্তি ভাবছেন, তিনি আর বাঁচতে চান না। পাশাপাশি, তিনি এও ভাবছেন, তাঁর অবর্তমানে পরিবারের কী হবে? সহ নাগরিকদের কাছ থেকে কোনও নিরাপত্তা তাঁরা কি পাবেন? পাবেন কি না, সেটা অন্য প্রশ্ন। কিন্তু সেই ব্যক্তির ধারণা, পাবেন না। তাই তিনি ভাবছেন, পরিবারের বাকিদের জীবনও শেষ করে দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব কাউকে বহন করতে হবে না। সহমর্মিতার অভাব আমাদের জীবনে তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার বিষয়টি নিখাদ ঈর্ষা বা হিংসাও হতে পারে। ভদ্রকালীর বিষয়টি হয়তো তেমনই।
চন্দননগরের বাসিন্দা সাহিত্যিক রজত চক্রবর্তী অনেকটা এমন যুক্তি খাড়া করেছেন। তবে তিনি তার সঙ্গে জুড়েছেন সামাজিক মাধ্যমের দাপটের কথা। তাঁর কথায়, বর্তমান সময়ে আমরা একটা মেকি জীবনযাপন করছি। যা সামাজিক মাধ্যমের মিথ্যা দেখনদারি দিয়ে প্রভাবিত। তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। ছায়া প্রতিযোগিতায় তৈরি হচ্ছে হতাশার বলয়। আমরা আগেই সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়েছিলাম, অর্থসঙ্কট তৈরি হয়েছিল। সহমর্মী সঙ্গীর অভাবে এবার হতাশা শেষসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
উত্তরপাড়ার একটি স্কুলের ফাইন আর্টসের শিক্ষক সজল মিত্র বলেন, মানবিক মূল্যবোধের মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে। সেটা কখনও নেতিবাচক কর্তব্যবোধ, কখনও ঈর্ষা হয়ে পরিবারের সকলকে নিয়ে ধ্বংসের দিকে যাওয়ার ঝোঁক তৈরি করছে। 
কারণ যাই হোক, নাগরিকদের চর্চায় বারবার উঠে আসছে এক ভিন্ন ধরনের ‘অনার কিলিং’-এর কাহিনি। চন্দননগরে কলুপুকুরে মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যা, তারপর বৈদ্যপোঁতায় মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রবীণ একেন্দ্রবাবুর আত্মহত্যার চেষ্টা, তারপর বুধবার ভদ্রকালীর ঘটনা। সব মিলিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কের দোলাচলে 
সাধারণ মানুষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ