নয়াদিল্লি: যে কোনও সময় প্রত্যাঘাত করতে পারে ভারত। আর তার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসক (প্রাইম মিনিস্টার) চৌধুরী আনওয়ারুল হক সম্প্রতি সব দল ও নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বসবাসকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সভায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন নিলম ভ্যালি ও সহ কয়েকটি ট্যুরিস্ট স্পটে পর্যটকদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানও আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার। ভারত প্রত্যাঘাত করলে যাতে ত্রাণের কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণরেখা পর্যন্ত যে সব হাইওয়ে গিয়েছে, সেগুলি যাতে সচল থাকে, তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স বাহিনীর জন্য ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত কী কার্যকলাপ চালাচ্ছে তার দিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে। পহেলগাঁও হামলার পরেই ভারত দাবি করেছিল, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের অন্তত ৪০টি লঞ্চপ্যাড সক্রিয়। সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে দিল্লি। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফের ছিনিয়ে নেওয়ার এটাই প্রকৃত সময় বলেও দাবি উঠেছে। তারপরই সীমান্তের ওপারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পাক অধিকৃত কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশে ৫০টি সাইরেন বসানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের কথা উল্লেখ না থাকলেও বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় আকাশপথে হামলা বা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাইরেন বসানো জরুরি। তাই সিভিল ডিফেন্সের আধিকারিকরা যেন দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেশোয়ার ও অ্যাবোটাবাটে চারটি করে, দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি করে সাইরেন বসানো হচ্ছে।