সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় একের পর এক থানায় মামলা রুজু হচ্ছে। আর এতেই বর্তমানে গর্ভবতী নাবালিকার পরিবারের লোকেদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারি এড়াতে অনেকেই হাসপাতালে না পাঠিয়ে বাড়িতেই প্রসব করানোর কথা ভাবছেন। এই ঘটনায় ইনস্টিটিউশন ডেলিভারির উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশ মনে করেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের ফলে হিতে বিপরিত হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। বাড়িতে প্রসব করিয়ে গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। যদিও এনিয়ে স্বাস্থ্য কর্তারা মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁদের একাংশের বক্তব্য, আগে থেকে গর্ভবতী হওয়ায় মায়েদের ছাড় দিয়ে এখন থেকে আইনের কড়াকড়ি করা হলে তাতে একুল ওকুল দুই-ই রক্ষা পাবে। বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল সুপার শুভঙ্কর কয়াল বলেন, নাবালিকা গর্ভবতী হাসপাতালে ভরতি হলে পুলিশের কাছে তথ্য পাঠানোর নিয়ম অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এখনও সেই নিয়ম চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য বহু সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলে। আইনও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তার জেরে নাবালিকা গর্ভবতীর সংখ্যাও বাড়ছে। বাঁকুড়া জেলায় বর্তমানে বহু নাবালিকা গর্ভবতী রয়েছেন। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভরতি হলেই আধারকার্ডে বয়স কম দেখলেই পুলিশের কাছে তথ্য পাঠানো হচ্ছে। তারপরেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নাবালিকার পরিবারের লোকেদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা সহ একাধিক জেলায় নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তারির ঘটনাও ঘটেছে। তাতেই বর্তমানে গর্ভবতী নাবালিকার পরিবারে একপ্রকার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তারি থেকে বাঁচতে তাঁদের অনেকেই এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের এড়িয়ে বাড়িতেই প্রসব করানোর পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ আইনের হাত থেকে বাঁচতে নাবালিকার আধার কার্ডের বয়স অসাধু উপায়ে ভাড়ানোর চেষ্টাও চালাচ্ছেন।



