বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: নিট পিজি’র পরীক্ষার্থীদের খুঁটিনাটি তথ্যের ভাণ্ডার ফাঁস হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে ফোন আসছে তাঁদের কাছে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দিচ্ছে কেউ। তারপর চিকিৎসাশাস্ত্রের কোন শাখায় ‘ভালো কলেজ’-এ তারা ভরতি হতে চান, জেনে নিয়ে ভরতি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করল চিকিৎসকদের অন্যতম সর্বভারতীয় সংগঠন ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি ডাঃ লক্ষ্য মিত্তল বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি। সব অভিযোগের মধ্যে একটাই মিল—টাকার বিনিময়ে পছন্দের বিষয়ে এমডি বা এমএস পড়ানোর সুযোগ নাকি করে দেবে কিছু লোক! অন্তত ২৫টি এমন অভিযোগ পেলাম। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিসেসকে (ডিজিএইচএস) জানিয়েছি। আরও বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ তুলে দেব জানাব শীঘ্রই। আমাদের আশঙ্কা, ছেলেমেয়েদের তথ্যভাণ্ডার স্বার্থান্বেষী কিছু লোকের কাছে ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত হওয়া উচিত।’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে নিট পিজি’র তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিং চলছে। সারা দেশ থেকে কমবেশি প্রায় আড়াই লক্ষ ছাত্রছাত্রী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এমডি-এমএস সহ উচ্চশিক্ষায় আসন রয়েছে ৫০ হাজারের কিছু বেশি।
কী ধরনের ফোন আসছে? ইউডিএফ সূত্রের খবর, পরীক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা সহ বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে তাঁদের ফোন নম্বরে আসছে কলগুলি। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, অর্থো, পেড, রেডিও বা কী ধরনের বিষয় নিয়ে তাঁরা উচ্চশিক্ষা নিতে চাইছেন, জানতে চাওয়া হচ্ছে ফোনে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভরসা দেওয়া হচ্ছে, টাকা ফেললেই তারা মোটামুটি ভালো কলেজে ওই সাবজেক্টে নিশ্চিতভাবে ভরতি করিয়ে দেবে।
ইউডিএফ-এর এক কর্তা বলেন, ‘যেমন, নিট পিজিতে ১ লক্ষ র্যাংকিং করেছেন, এমন এক ছাত্রীর কাছে ফোন এসেছে। ওরা দাবি করেছে, ১ কোটি দাও। যেমন সাবজেক্ট চাইছ, ভরতি হয়ে যাবে। প্যাকেজ কোটির। ভাবুন, এমবিবিএসে লক্ষাধিক র্যাংকের ছেলেমেয়েরা ম্যানেজমেন্ট কোটায় ভরতি হতে চাইলেই প্রাইভেট কলেজগুলি কোটি হাঁকছে। সেখানে পিজিতে এই খরচে এত বেশি র্যাংকে সম্ভব? এখানেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। পুরোটাই কোনো ফ্রডস্টার গ্যাংয়ের কাজ বলে মনে হয়।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, পরীক্ষার্থীদের তথ্য ওরা পাচ্ছে কোথা থেকে? কারণ, বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে ফোনে তারা নির্দিষ্ট র্যাংকও বলে দিচ্ছে। কোনোভাবে ভিতর থেকেই লিক হয়নি তো? সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রসঙ্গত, নিট পিজি’র আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশনস (এনবিই)। কাউন্সেলিং করে মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি (এমসিসি)।
মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের পিজিটি (কমিউনিটি মেডিসিন) ডাঃ পৃথ্বীশ সরকার বলেন, ‘আমরাও এই ধরনের ফোন কল পেয়েছি। বুঝে গিয়েছি, সিংহভাগ ক্ষেত্রে এগুলি জালিয়াতদের ফোন। আগবাড়িয়ে টাকা দিলেই সর্বনাশ। তবে এত বিস্তারিত তথ্য ওদের কাছে আগে থাকত না!’