নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রাথমিকের পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই প্রশ্নপত্র তৈরি করা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করল প্রাইমারি বোর্ড। কারণ প্রাথমিকে সেকেন্ড সামেটিভ পরীক্ষার জন্য সারা রাজ্যে একই প্রশ্নপত্র তৈরির কথা ছিল। অর্থাৎ মাধ্যমিক পরীক্ষার ধাঁচেই সেই পরীক্ষা নেওয়া হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কার্যত অসম্ভব হচ্ছে। তাই পুরনো ধাঁচেই স্কুলগুলিকে নিজেদের মতো প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে। যার জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে স্কুলের শিক্ষক থেকে জেলাস্তরের শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের। কারণ রাজ্য থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পাঠালে, সেই গোটা প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা বেশ ঝক্কি সাপেক্ষ। কারণ, কয়েক হাজার প্রাইমারি স্কুলের লক্ষাধিক প্রশ্নপত্র রাজ্য থেকে আসবে। সেগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় সুরক্ষিত রাখতে হবে। তার উপর যথাসময়ে সেগুলি পোঁছে দিতে হবে কেন্দ্রে।
নদীয়া জেলার ডিপিএসসির চেয়ারম্যান দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, এবার প্রাথমিক পরীক্ষায় রাজ্য থেকেই প্রশ্নপত্র পাঠানোর কথা ছিল। অর্থাৎ রাজ্যের সমস্ত স্কুলেই একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হতো। কিন্তু আপাতত সেই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে। পুরনো পদ্ধতিতেই পরীক্ষা হবে।
আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক স্কুলের দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা। ৩০ আগস্টের মধ্যে সেই পরীক্ষা শেষ করতে হবে। এবারই প্রথমবার নতুনভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাইমারি বোর্ড। সেইমতো জোর প্রস্তুতিও শুরু হয়। তবে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক, ডিআই ও বিভিন্ন জেলার ডিপিএসসির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে, একাধিক সমস্যার বিষয় উঠে আসে। তাতে দেখা যায় রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্কুলে ৪৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। গড়ে পাঁচটি করে পরীক্ষার বিষয় রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় আড়াই কোটি প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। যার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, এমন বহু প্রাথমিক স্কুলে রয়েছে, যেখানে সকালে ক্লাস হয়। তাই সেই সমস্ত স্কুলে আগে প্রশ্নপত্র পোঁছবে। সেক্ষেত্রে দুপুরে ক্লাস হওয়া পড়ুয়ারা প্রশ্নপত্র আগাম পেয়ে যেতে পারে। নদীয়া জেলাতে ২৭০০ প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। যার মধ্যে ৫ শতাংশ স্কুলে সকালবেলা ক্লাস হয়।
শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের মতে, বিপুল সংখ্যক প্রশ্নপত্র আলাদা করা, তাকে সুরক্ষিত জায়গায় রাখা বেশ জটিল কাজ। পাশাপাশি প্রতি থানার আওতায় কমবেশি একশোটি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া কার্যত অসম্ভব।