Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় হু হু করে বাড়ছে প্রেসার, সুগারের রোগী, জাল ওষুধের ভীতি, ভিড় তমলুক হাসপাতালে

জেলায় হু হু করে বাড়ছে প্রেসার, সুগারের রোগী, জাল ওষুধের ভীতি,  ভিড় তমলুক হাসপাতালে
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সুগার এবং প্রেসারের রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। মার্চ মাসে ওপিডি বিল্ডিংয়ের চারতলায় এনসিডি (নন কমিউনিকেবল ডিজিজ) ক্লিনিকে ৯০০’র বেশি রোগী নানা সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ সুগার ও প্রেসারের রোগী। জাল ওষুধের রমরমা কারবারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। হাসপাতালের এনসিডি ক্লিনিকে এসে বিনা পয়সায় ইনসুলিন, ইনহেলার সহ যাবতীয় ওষুধ সংগ্রহ করছেন তাঁরা। সবকিছুই দেওয়া হচ্ছে ফ্রিতে। ভরসা একটাই—সরকারি হাসপাতালের ওষুধ জাল হবে না। সেই কারণেই আউডডোরের সামনে সকাল থেকেই ঠাসা ভিড়। 

Advertisement

তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবনির্মিত ওপিডি বিল্ডিংয়ের চার তলায় পৃথক এনসিডি ক্লিনিক রয়েছে। এখানে সুগার, প্রেসার, স্ট্রোক এবং থাইরয়েড প্রভৃতি রোগের উপসর্গ থাকা রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা পান। গত দু’মাস হল এখানে থাইরয়েডের ওষুধও বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানোর রোগীদের বেশিরভাগ বয়স্ক। তাঁদের মধ্যে ‌একচেটিয়া সুগার ও প্রেসারের সমস্যায় জর্জরিত। মঙ্গলবার সরকারি ছুটির দিনেও হাসপাতালের ওপিডি বিল্ডিং ভিড়ে থিক থিক করছিল। ওষুধ নেওয়ার জন্য ওপিডি কাউন্টারের নীচে অতিরিক্ত ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলিও চলল।
এদিন তমলুক শহরের পার্বতীপুর থেকে এনসিডি ক্লিনিকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তরুণ দত্ত। তিনি বলেন, তিন মাস হল সুগারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেভাবে জাল ওষুধ নিয়ে রোজ খবর দেখছি, তাতে প্রাইভেটে চিকিৎসা করাতে ভয় পাচ্ছি। সেজন্য সোজা মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে এসেছি। এখানে সুগার, প্রেসার রোগীদের জন্য আলাদা ক্লিনিক থাকায় আমাদের মতো বয়স্কদের সুবিধা হয়েছে। নন্দকুমার থানার বহিচবেড়িয়া থেকে সুগারের রোগী আমেনা বিবি বলেন, এখানকার পরিষেবা ভালো। বিনামূল্যে সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। এরকম সুবিধা থাকায় আমার মতো অনেক রোগী আসছেন।
এনসিডি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক বলেন, আগে সুগার কিংবা প্রেসারের রোগ নিয়ে এত ভিড় হতো না। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্ট্রেস থেকে এধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখানে এনসিডি ক্লিনিক চলার বিষয়ে অনেকে‌ই ঩ঠিকমতো জানেন না। ইনসুলিন, ইনহেলার সহ সব ধরনের ওষুধ ফ্রিতে পাওয়ার বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হওয়ার পর ভিড় বাড়ছে। গত দু’মাস হল এখান থেকে থাইরয়েডের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্ট্রোকে আক্রান্তের পর নানা সমস্যা নিয়ে রোগীরাও আসছেন। তাঁরাও পরিষেবা পাচ্ছেন।
জীবনদায়ী ওষুধের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে চলেছে কেন্দ্র। এই অবস্থায় রোগজ্বালায় জর্জরিত সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। যেকারণে সরকারি হাসপাতালে বেশি সংখ্যক মানুষ পরিষেবা নিচ্ছেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেনন কমিউনিকেবল ডিজিজ ক্লিনিকে আগের তুলনায় অনেক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। 
মার্চ মাসেই সর্বাধিক ন’শো জন পরিষেবা নিয়েছেন। এনিয়ে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষা শর্মিলা মল্লিক বলেন, আমাদের হাসপাতালে এনসিডি ক্লিনিক বেশ ভালোভাবে চলছে। রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এখানে রোগীকে ইনসুলিন থেকে ইনহেলার, যাবতীয় ওষুধ ফ্রিতে সরবরাহ করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ