সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা মহকুমার নদীগুলির জল কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও ব্যাপক আকার ধারন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর জল বাড়তে শুরু করায় ভাঙনও শুরু হয়, আবার জল কমলেও ভাঙন অব্যাহত থাকে। ভাঙন প্রতিরোধে সেচদপ্তর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। যদিও সেচদপ্তর জানিয়েছে, ভাঙানপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বাঁধের জন্য বরাদ্দ চেয়ে রাজ্যে আবেদন করা হয়েছে। বর্ষা শেষে কয়েকটি বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
মাথাভাঙা মহকুমাজুড়ে একাধিক ছোটো-বড়ো নদী রয়েছে। মানসাই, সুটুঙ্গা, ধরলা, নেন্দার ভাঙনে প্রতিবছর কয়েকশো হেক্টর চাষের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভিটেছাড়া হতে হয় বহু মানুষকে। সংশ্লিষ্ট নদীগুলির ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দারা সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। মাথাভাঙার নিশিগঞ্জ, পারডুবি, জোরপাটকি, গোপালপুর, হাজরাহাট, খলিসামারি, ভাঐরথানা, ছোটো শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন এতটাই ব্যাপক আকার ধারন করে যে প্রতিবছর বর্ষার সময়ে কয়েকশো হেক্টর চাষের জমি নদীগর্ভে চলে যায়। এবারও তা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই-এক জায়গায় বাঁধ দিয়ে এই ভাঙন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। গোটা এলাকাই ভাঙনপ্রবণ। প্রতিবছর বর্ষায় নদীর জল বাড়তে শুরু করায় যেমন ভাঙন দেখা যায়, তেমনই জল কমতে শুরু করলেও ভাঙন চলতে থাকে। সেচদপ্তর থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি সবাইকে জানানোর পরও ভাঙন সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।
মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি পঞ্চায়েতের শিবপুর পানাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা জহিরউদ্দিন মিয়াঁ, আবুবক্কর মিয়াঁ বলেন, নদীতে জল বাড়লেও ভাঙন হয়, আবার জল কমলেও ভাঙন অব্যাহত থাকে। আমরা ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাই। বাঁধের দাবি বিগত কয়েক বছর ধরে করে আসছি, কিন্তু বাঁধ হল না।
মাথাভাঙা মহকুমা সেচদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ভাঙন সমস্যা রয়েছে এটা জানি। সেই অনুযায়ী বাঁধের পরিকল্পনা করে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই কাজ শুরু করা হবে।