সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: শুখা মরশুমেও রঘুনাথগঞ্জের ভাগীরথীর পাড়ের বাসিন্দাদের তাড়া করছে ভাঙনের আতঙ্ক। গত কয়েকদিন আগে পাড় সংলগ্ন রাস্তায় ফাটল ধরে। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই কিছুটা এলাকা বসে গিয়েছে। গ্রামে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ঢালাই রাস্তার একাংশে ধস নামে। রাস্তায় ধস নামায় এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আরও কয়েক মিটার রাস্তাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। পথচলতি মানুষ বিপদের আশঙ্কা করছেন। রাস্তা সংলগ্ন একাধিক বাড়িতে ফাটলও ধরেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী ভাবে গঙ্গার পাড় বাঁধানো হোক। নইলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের বিডিও সুবীর দাস বলেন, ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়ার পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি তাঁরা দেখছেন। আপাতত ওই পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। রাস্তাটির শীঘ্রই সংস্কার হবে।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের রানিনগর গ্রাম ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। নদীর পাড়েই ঘনবসতিপূর্ণ রানিনগর। নদীর পাড় বরাবর গ্রামের মধ্যে চলে গিয়েছে মূল রাস্তাটি। বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের কোল ঘেষে ভাগীরথী নদী বয়ে চলেছে। বর্ষার মরশুমে বৈকুণ্ঠপুর কাটান এলাকাটি প্রায় ফি বছরই কেটে যায়। রাস্তার একাংশ নদীর কিনারে ঝুলে রয়েছে। গত বর্ষায় কাটান এলাকায় বাঁশ দিয়ে ভাঙন আটকায় প্রশাসন। মাস তিনেক আগেই রাস্তাটি ঢালাইও করা হয়। এই পথ দিয়েই নতুনগঞ্জ, রানিনগর ও গাদির কয়েক হাজার মানুষ রঘুনাথগঞ্জ শহরে আসেন। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ধস নামায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। রাস্তাটির কয়েক মিটার প্রায় এক থেকে দেড় ফুট বসে গিয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী পায়ে হেঁটে যাওয়া আসা করছেন। প্রায় একশো মিটার রাস্তাজুড়ে ফাটল ধরেছে। বিপদের আশঙ্কায় দিন কয়েক আগে থেকেই ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন।
রাস্তা সংলগ্ন দু’টি বাড়ির দেওয়ালেও ফাটল ধরেছে বলে দাবি। এমনকী দেওয়াল থেকে মাটি বসে গিয়েছে। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে পরিবারগুলি। স্থানীয় গৃহবধূ আমিনা বিবি বলেন, আতঙ্কে রয়েছি। প্রতিবছরই এই এলাকায় ধস নামে। কোনওরকমে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকা দেওয়া হয়। নদীর পাড় পাকা ও স্থায়ী ভাবে বাঁধানো হোক। কিছু হলে আমরা কোথায় যাব।
রানিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মেহেরুন্নেশা বলেন, রাস্তা ঢালাইয়ের আগে ওই এলাকাটি বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া হয়েছিল। নদীতে জলস্তর কমে যাওয়ায় রাস্তাটি বসে গিয়েছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে।