


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার খাওয়ার প্রবল ভয়। তবে পেটের দায়ে খানিক সাহস সঞ্চয় করে শনিবার বিগ্রেডে এলেন প্যাটিস বিক্রেতারা। দুরুদুরু বুকে দাঁড়িয়ে রইলেন মাঠের বাইরে। মার খাবার আতঙ্কে ভিতরে তেমনভাবে ঢোকার সাহস দেখালেন না। কয়েক মাস আগে শত কণ্ঠে গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে উগ্র গেরুয়া কর্মীরা বেধরক মেরেছিল গরিব প্যাটিস বিক্রেতাকে। সেই নৃশংস ঘটনার প্রবল সমালোচনা হয় দেশজুড়ে। তবে গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডবের পর প্যাটিস বিক্রেতাদের ভয় এখনও কাটেনি। ফলে বাঙালির প্রিয় চিকেন প্যাটিস নিয়ে মোদির সভায় যাননি তাঁরা। ভেজ আর পনিরের প্যাটিস নিয়ে মাঠের বাইরে ভয়ে ভয়ে বিক্রি করেছেন।
এক বিক্রেতার দাবি, ‘পুলিশ বলে দিয়েছে শুধু ভেজ বিক্রি করবে।’ তারপর তিনি বললেন, ‘বিক্রি করতে এসে এখন খুব ভয় লাগছে।’ ময়দান মেট্রোর সামনে এক প্যাটিস বিক্রেতা বসেছিলেন। তিনি কানে একটু কম শোনেন। নাম জিজ্ঞেস করতে একটু রেগেই বললেন, ‘কিনতে হলে নিয়ে যান।’ তারপর বললেন, ‘ভেজ আছে পনির আছে।’ চিকেন নেই? জিজ্ঞেস করার পর একটু অভয় পেয়ে বললেন, ‘আছে। লাগবে কী?’ তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি গেলেন চলে। প্যাটিস বিক্রেতাদের ভয়ের পাশাপাশি দেখা গিয়েছে অকুতোভয় বিজেপি কর্মীদের।
বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা ফ্লেক্স-কাটআউট খুলে নিয়ে যেতে রীতিমতো হুল্লোড় শুরু করলেন মাঠজুড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরাট আকারের কাটআউট নিলেন খুলে। মাথায় করে নিয়ে চলে গেলেন কাটআউট। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, ‘খোলার সময় কেউ কিছু তো বলল না। তাই নিয়ে যাচ্ছি।’ টালিগঞ্জের এক বিজেপি সমর্থক বুদ্ধদেব সর্দার বললেন, ‘মোদিজির কাটআউট নিয়ে যাচ্ছি। পার্টি অফিসের সামনে লাগিয়ে দেব।’ কেউ কাটআউট খুলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লেক্স ছিঁড়লেন। এক সমর্থক তা দেখে প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, ‘এই ফ্লেক্স তৈরি করতে কতই বা টাকা লাগবে? এভাবে ছিঁড়ছেন কেন?’ তবে সেসব কথায় কান দেওয়ার বান্দা নন বিজেপির বেশিরভাগ কর্মী-সমর্থক। তার ফলে মোদির সভা শেষে দেখা গিয়েছে, মাঠ প্রায় কাটআউট শূন্য। ব্রিগেডে পড়ে ছিল অজস্র জলের প্যাকেট।