Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সিবলেদের মরিয়া লড়াই বিফলে গেল! মাণ্ডবীর তীরে স্বপ্নভঙ্গ ইস্ট বেঙ্গলের

সাডেন ডেথ চলছে। ফাতোরদা স্টেডিয়ামে পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে।  বিষ্ণু বল বাইরে মারলেন। এরপর সাহিল তাবোরা লক্ষ্যভেদ করতেই আগাম বড়দিন শুরু গোয়ায়।

সিবলেদের মরিয়া লড়াই বিফলে গেল! মাণ্ডবীর তীরে স্বপ্নভঙ্গ ইস্ট বেঙ্গলের
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও:

Advertisement

ইস্ট বেঙ্গল- ০     :   এফসি গোয়া- ০
(সাডেন ডেথে ৬-৫ ব্যবধানে জয়ী গোয়া)

সাডেন ডেথ চলছে। ফাতোরদা স্টেডিয়ামে পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে।  বিষ্ণু বল বাইরে মারলেন। এরপর সাহিল তাবোরা লক্ষ্যভেদ করতেই আগাম বড়দিন শুরু গোয়ায়। আলো, উৎসব, সেলিব্রেশন কোচ মানোলোকে ঘিরে। আবারও, আরও একবার তিরে এসে তরী ডুবল ইস্ট বেঙ্গলের। শিল্ডের পর সুপার কাপেও টাই-ব্রেকারে হার অস্কার ব্রিগেডের। ৬-৫ ব্যবধানে জিতে ফের এএফসি’র স্লট গোয়ার পকেটে। সুপার কাপ জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন বোরহা।
লাল কার্ড দেখায় গ্যালারিতে ছিলেন অস্কার। তবে উইনিং কম্বিনেশনে বদল আনেননি বিনো। ৪-২-৩-১ স্ট্র্যাটেজিতে মাঝমাঠ জমাট রাখার পরিকল্পনা স্পষ্ট। চার ডিফেন্ডারের উপরে সাউল ও রশিদ পালা করে নামাওঠা করলেন। ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফ্রি ফুটবলার। পাশাপাশি বোরহারা বল ধরলেই ধেয়ে আসছিলেন বিপিনরা। কড়া মার্কিংয়ের জাঁতাকলে  হাঁসফাস করলেন ড্র্যাজিকরা। পক্ষান্তরে, প্রতি-আক্রমণে  বিপিনের দৌড়ে চাপে পড়ল গোয়া। আক্রমণের পাশাপাশি ট্র্যাক ব্যাকেও আসাধারণ বিপিন।  এরইমধ্যে, ১২ মিনিটে নাওরেমের থেকে বল পেয়ে ফাঁকায় বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মিগুয়েল। কিন্তু  বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২১ মিনিটে বিপিনের মাইনাস জালে জড়াতে ব্যর্থ হন নাওরেম মহেশ। মণিপুরি উইং হাফ এদিন নিষ্প্রভ। ডানপ্রান্তে বারবার ধরা পড়ে যাচ্ছেন। তা চোখ এড়ায়নি গ্যালারিতে বসা ব্রুজোঁর। তাঁর ইশারায় দ্বিতীয়ার্ধে নাওরেমকে তুলে নামানো হল বিষ্ণুকে। 
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই কিছুটা ওপেন ফুটবলে ফেরে। ৬৩ মিনিটে ক্ষমার অযোগ্য মিস হিরোশির। সারা ম্যাচে নেই কোনও অবদান। বোঝা উচিত জগিং করার জন্য তাঁকে পয়সা দেওয়া হয় না। হানিমুন পিরিয়ড শেষ। হিরোশিকে পত্রপাঠ বিদায় করা উচিত। ৬৩ মিনিটে মিগুয়েলের দুরন্ত ফ্লিক থেকে মাপা বল ভাসান বিপিন। এমন তুলোর মতো ক্রস পেলে এখনও শিশির ঘোষ কিংবা দীপেন্দু বিশ্বাস জাল কাঁপিয়ে দেবেন। কিন্তু জাপানি স্ট্রাইকারটির নরম হেড গোয়া গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে। ৭৪ মিনিটে ফের সুযোগ। এক্ষেত্রে বিষ্ণুর শট প্রতিহত করতে ব্যর্থ গোয়া গোলরক্ষক। বল গোললাইন অতিক্রম করার আগে কোনওরকমে বিপন্মুক্ত করেন  হৃতিক তিওয়ারি। পাল্টা হামলা চালাল গোয়াও। পরের মিনিটেই লাল-হলুদ বক্সে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাইসন। গোয়ানিজ ফুটবলারের গোলার মতো শট পোস্ট কাঁপিয়ে বাইরে যায়। দারুণ সুযোগ পেয়ে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ ড্র্যাজিকও। এই পর্বে লাল-হলুদ রক্ষণে ভরসা জোগালেন আনোয়ার ও কেভিন। তাঁরা ছাপিয়ে গেলেন নিজেদের।
টেকনিক্যাল লড়াই জারি অতিরক্ত সময়েও। কিন্তু গোয়ার আর্দ্রতায় দু’দলই তখন ক্লান্ত। এরইমধ্যে সিভেরিওর পা থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচালেন গিল। এরপর টাই-ব্রেকার। নিষ্পত্তি হয়নি সেখানেও। রশিদ ও বিষ্ণু বল ওড়ালেন গ্যালারিতে। একইসঙ্গে লাল-হলুদের ট্রফি ভাগ্যেরও সলিল সমাধি হল।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, সিবলে, আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গা (জয়), রশিদ, সাউল, মিগুয়েল, বিপিন (হামিদ), নাওরেম (বিষ্ণু), হিরোশি (ডেভিড)।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ